❒ ইসরায়েল-আমেরিকার ঘুম হারাম
ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতোবা খামেনিকে নির্বাচনের ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সংঘাতের এই সময় তেহরান এমন একজন নেতাকে সামনে এনেছে যিনি আপসের বদলে কঠোর অবস্থানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতোবা খামেনিকে দায়িত্ব দেওয়া ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেক আঞ্চলিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। ট্রাম্প এর আগেই মোজতবাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শুরুতেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর বিশেষজ্ঞ পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতোবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয়।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, এত বড় ঝুঁকি নিয়ে একজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার পর যদি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তারই ছেলেকে দেখা যায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর বাস্তবতা।
ইরানের ক্ষমতা কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার হাতেই পররাষ্ট্রনীতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক কৌশলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকে। তাই মোজতোবা খামেনির উত্থানকে অনেকেই ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ায় নতুন নেতা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। তেহরানের ঘনিষ্ঠ এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এই পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব সহজে আপসের পথে যাবে না।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের পল সালেম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে নেতৃত্বে যারা আসছেন তাদের জন্য আপস করা কঠিন।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আয়ার বলেন, মোজতোবা খামেনি রেভল্যুশনারি গার্ডস আইআরজিসির কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নাম এবং তার নেতৃত্বে প্রতিরোধের অবস্থান আরও জোরালো হতে পারে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতোবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই রেভল্যুশনারি গার্ডস আইআরজিসি এবং শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের এই সময়ে তাকে সামনে আনা তেহরানের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে যে ইরান চাপের মুখেও পিছু হটবে না। এ সিদ্ধান্ত বরং ইসরায়েল-আমেরিকার ঘুম হারাম করবে। সূত্র; টাইমস অফ ইসরায়েল।
ধ্রুব/এস