আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার জেরে শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: গত জুনের স্মৃতি ফিরছে
তেহরানে মিডল ইস্ট আই (MEE)-এর সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শহরজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। গত বছরের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যে মাত্রার হামলা হয়েছিল, এবারের আক্রমণ তার চেয়েও বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানিরা আরও বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত: উপসাগরীয় অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুসমূহ
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে:
কাতার: আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি।
কুয়েত: আল-সালেম বিমান ঘাঁটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি।
বাহরাইন: মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং এর সার্ভিস সেন্টার।
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যৌথ আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদ এবং স্বার্থ তাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, এই আগ্রাসনের পর আর কোনো লাল রেখা (Red Line) নেই।
রিয়াদ ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণ
এএফপি এবং রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এই বিস্ফোরণগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
কাতার ও বাহরাইনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে কাতারকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা সমস্ত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি সার্ভিস সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে: নিউ ইয়র্ক টাইমসের চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে উপস্থাপিত এই পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এতে ইসরায়েলকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপক আক্রমণ কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিশানা করছে, অন্যদিকে ইরান পুরো অঞ্চলে তাদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।
তথ্যসূত্র: ফার্স নিউজ, রয়টার্স, এএফপি, আল জাজিরা, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং মিডল ইস্ট আই।