নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ শিশু ছবি: ধ্রুব নিউজ
কোলে থাকা দুধের শিশু থেকে শুরু করে কচি প্রাণগুলো এখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে যশোরের হাসপাতালের বেডে ও মেঝেতে। বাড়ছে হামের সংক্রমণ, আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিভাববকদের দুশ্চিন্তা। জেলায় এ পর্যন্ত ২৫ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং আরও ১৫৮ জন শিশু যন্ত্রণাদায়ক এই জ্বরের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, শিশু রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। উদ্ভূত এই জরুরি অবস্থা সামাল দিতে আগামী রোববার থেকে জেলাজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ হাম প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন।

বেডে জায়াগা না পাওয়া রোগীদের মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা ধ্রুব নিউজ
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ। সংক্রামক ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় গত বুধবার মহিলা মেডিসিন পেয়িং ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ৮টি বেড দিয়ে বিশেষ ইউনিট খোলা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা পূর্ণ হয়ে গেছে। এমনকি অনেক অবুঝ শিশুকে হাসপাতালের বারান্দার ধুলোবালি আর নাজুক পরিবেশেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আক্রান্তদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে কোলের শিশুরা, যাদের বয়স মাত্র এক মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের তালিকায় দেখা যায় এক মাস বয়সী শিশু জুলেখা, দুই মাস বয়সী শিশু আলামিন, আড়াই মাস বয়সী শিশু হুমায়রা, চার মাস বয়সী শিশু রিয়ান ও রাফসান, আট মাস বয়সী শিশু আভিয়ান, নয় মাস বয়সী শিশু আয়েশা, দশ মাস বয়সী শিশু মারিয়া এবং ১১ মাস বয়সী শিশু আরশি। এ ছাড়া ৩৫ বছর বয়সী নীলা নামের একজন নারীও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কোলের শিশুদের এভাবে দলে দলে আক্রান্ত হওয়া অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানার সাথে আলাপকালে জানা যায়, এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অবহেলা। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অনুপস্থিতি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা আগামী রোববার থেকে পাড়া-মহল্লায় জরুরি এমআর ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করছি। আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিটি শিশুকে এই সুরক্ষাকবচের আওতায় আনতে হবে। চিকিৎসকদের কড়া বার্তা—কোলের শিশুর সামান্য জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা হামের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ছুটে যান। ইতোমধ্যে সব উপজেলায় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।