নিজস্ব প্রতিবেদক
কারবালা মসজিদের মডেল। ছবি: সংগৃহীত
নতুন আলো দেখতে শুরু করেছে যশোরের ঐতিহাসিক কারবালা জামে মসজিদ। জায়গা সংকূলান না হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্য বহনকারী এই মসজিদের বেইজমেন্টে সীমিত পরিসরে নামাজ আদায় করতে হতো হাজারো মুসুল্লিকে। সেই কষ্ট দূর করতে এবং থমকে থাকা সম্প্রসারণ কাজ পুনরায় চালু করতে সরকারি তহবিল থেকে অনুমোদন করা হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৪৬ টাকার প্রাক্কলন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর 'সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (GSID-2)' প্রকল্পের আওতায় এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, 'ইমপ্রুভমেন্ট অফ কারবালা জামে মসজিদ আরবপুর ইউনিয়ন' প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বানের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়ে বিজ্ঞাপিত কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এই বরাদ্দ প্রাপ্তির পর যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা এক বার্তায় সন্তোষ প্রকাশ করে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, যশোরের ঐতিহ্যবাহী কারবালা মসজিদের উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ১ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা (প্রায়) বরাদ্দের চিঠি আজ হাতে পেলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এ বিশেষ অনুগ্রহ যশোর পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে; এর জন্য আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।”
বরাদ্দ নিশ্চিতের খবরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি ও এলাকাবাসীর মাঝে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
মসজিদের থমকে থাকা কাজ আবার সচল হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কারবালা জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান বলেন, "আমাদের এই প্রাচীন মসজিদটি দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় মানোন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নিজ উদ্যোগে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে তা থেমে যায়। সরকারের এই বড় বরাদ্দটি আসার ফলে আমাদের সেই থমকে থাকা কাজগুলো এবার পুনরায় সচল হবে। কাজ শেষ হলে মুসুল্লিরা ভালো পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারবেন। আমি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
একই আশা প্রকাশ করে কারবালা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, "সরকারি এই বড় বরাদ্দের মাধ্যমে মসজিদের ভৌত অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বড় দাবি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুতই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। একই সাথে জনবান্ধব বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দরপত্র সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ দ্রুত শেষ করে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হলে এই মসজিদটি খুব শীঘ্রই একটি দৃষ্টিনন্দন ও সুপরিসর স্থাপনায় পরিণত হবে।