❒ ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোরের বিজ্ঞান মেলা
এম জামান
ছবি: ধ্রুব নিউজ
পৌর কমিউনিটি সেন্টারের মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্টলগুলোর সামনে চোখভরা কৌতূহল আর স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একঝাঁক ক্ষুদে বিজ্ঞানী। নিজেদের তৈরি নানাবিধ বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন আর পরিবেশবান্ধব গবেষণাধর্মী মডেলগুলো দর্শনার্থীদের সামনে উৎসুক মনে তুলে ধরতে ব্যস্ত তারা। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোরের বিজ্ঞান মেলার প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল শিশু-কিশোরদের নতুন দিনের ভাবনার এ প্রতিচ্ছবি। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ একটি বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধনে রূপ নেয়।
আজ শনিবার বিকেলে এ বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে একঝাঁক ক্ষুদে বিজ্ঞানী উপস্থাপন করে পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের নকশা, কেউ বা রোবোটিক প্রোটোটাইপ কিংবা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মডেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম। ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের নানামুখী প্রজেক্ট ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ ঘুরে দেখে তিনি বলেন, ‘বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পাঠ্যবইয়ের তত্ত্বকে বাস্তবে রূপান্তরের এই প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকশিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের সচিব ড. প্রফেসর মো. আব্দুল মতিন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-সচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) শেখ আমিনুল ইসলাম, যশোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সাইফুল আলম এবং যশোর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। অতিথিরা মেলার প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী প্রজেক্ট উপস্থাপনার প্রশংসা করেন।
ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোরের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী ও আলোচনা পর্বটি পরিচালিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল বইমুখী না রেখে বিজ্ঞানমনস্ক, গবেষণামুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক উৎসব আয়োজন করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজ্ঞানভিত্তিক চমৎকার সব উদ্ভাবন আর নতুন প্রজন্মের গবেষণাধর্মী ভাবনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন। বিজ্ঞানপ্রীতি ও প্রযুক্তির এমন আয়োজনে এসব শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই এক নতুন ভবিষ্যতের সূচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অতিথিরা।