ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া সেই বাঘিনীটি দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে অবশেষে নিজের চিরচেনা আবাসস্থলে ফিরেছে। গতকাল দুপুরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়। চিকিৎসা শেষে কোনো উদ্ধারকৃত বাঘকে সুস্থ করে পুনরায় সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশে এবারই প্রথম, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি বড় মাইলফলক।
অবমুক্তির সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী। ১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া একটি সবুজ রঙের বাক্সের স্লাইডিং দরজা ওপরে তোলা হলে, ১১ বছর বয়সী বাঘিনীটি এক লাফে স্বাধীন জীবনে ম্যানগ্রোভ বনের গভীরে মিলিয়ে যায়। অবমুক্তির পর বাঘিনীটির গতিবিধি, নতুন পরিবেশের সাথে অভিযোজন এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য বনের ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি বিশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের সড়কিখাল এলাকায় শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে বাঘিনীটির সামনের বাম পা গুরুতর জখম হয়। উদ্ধারের পর তাকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রেখে দীর্ঘ ছয় মাস নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হয়। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন জানান, চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টায় বাঘিনীটির স্বাভাবিক চলাফেরা, ক্ষিপ্রতা ও শিকারি আচরণ পুরোপুরি ফিরে এসেছে।
প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, আহত বাঘটিকে সুস্থ করে বনে ফেরানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সুন্দরবনের কোনো বন্যপ্রাণী যাতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ইতিমধ্যে ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় নাইলনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এর সুফলও মিলছে। আগামীতে সুন্দরবনের সুরক্ষায় জনবল ও নৌযান আরও বৃদ্ধি করা হবে। সর্বশেষ বাঘশুমারি অনুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে।