নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তেশ্বরী নদীকে দখলদারমুক্ত করা ও ভৈরব নদীর সাথে সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে আজ সোমবার বিকেলে এক পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
মুক্তেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে যশোরে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টায় ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ পদযাত্রা পুলেরহাট মুক্তেশ্বরী নদীর তীর থেকে শুরু হয়ে শহরের দড়াটানা ভৈরব নদ পর্যন্ত অগ্রসর হয়।
পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাশেদ খান।
পদযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, ভৈরব আন্দোলনের অন্যতম নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, মুক্তেশ্বরী আন্দোলনের অন্যতম নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, উদীচী যশোর জেলা সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু, ভবদহ আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনিল বিশ্বাস, ভৈরব আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাচিনুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরব আন্দোলনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, অন্যতম নেতা মিজানুর রহমান, ভাসানী পরিষদ যশোর জেলা আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ, সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান কবির, বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন, অন্যতম নেতা সাঈদ আহমদ নাসির শেফার্ড, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা রিয়াদুর রহমান ও নওরোজ আলম খান চপলসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পদযাত্রায় অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের হাতের ব্যানারে ‘নদী বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানসহ মুক্তেশ্বরী নদীর মুক্তি দাবি করা হয়। ব্যানারে লিখিত দাবিসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল—আদ-দ্বীনসহ সকল দখলদারদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করা, নদী দখলকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এবং ভৈরবের সাথে উজানে মুক্তেশ্বরী নদীর সংযোগ স্থাপন করা। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে উজানে মাথাভাঙ্গার সাথে ভৈরব নদীর সংযোগ দেওয়ার দাবিও জোরেশোরে তোলা হয়।