Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের নিবন্ধ: বাংলাদেশের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা

হাম্মাদ সরফরাজ হাম্মাদ সরফরাজ
প্রকাশ : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১০:১১ পিএম
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের নিবন্ধ: বাংলাদেশের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা

ছবি: এ আই দ্বারা তৈরি

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর, কয়েক দশক ধরে নয়াদিল্লির দিকে ঝুঁকে থাকা পররাষ্ট্রনীতি সংস্কারের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের দুই বছর পর, বাংলাদেশ একটি চূড়ান্ত নির্বাচনী ম্যান্ডেট দিয়েছে। নতুন এই নেতৃত্ব দেশে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আমূল পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে নতুন করে সমীকরণ মেলানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম টালমাটাল সময় পার করে তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) এক বিশাল বিজয় উপহার দিয়েছেন। ২০২৪ সালে আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের ফলে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং জনরোষ যে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল, তারই চূড়ান্ত পরিণতিতে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাসিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। তবে এই রায় একটি নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অনুরোধ সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদি সরকার—যাকে হাসিনার প্রধান বাহ্যিক সমর্থক হিসেবে দেখা হয়—তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটি দুই প্রতিবেশীর ভঙ্গুর সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

নয়াদিল্লির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা

এই নির্বাচনের ফলাফলকে অনেক পর্যবেক্ষক হাসিনার বছরের পর বছর ধরে চলা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের একপাক্ষিক সমর্থনের বিরুদ্ধে একটি জোরালো প্রতিবাদও বটে।

ক্ষমতায় থাকাকালীন হাসিনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের এক বিশাল কাঠামো তৈরি করেছিলেন, যেখানে বিরোধী গ্রেপ্তার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছিল নিয়মিত ঘটনা। আঞ্চলিকভাবে তার সরকার ব্যাপকভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকে ছিল। ১৫ বছরে ৭ বার দিল্লি সফর সেই ঘনিষ্ঠতারই প্রতিফলন। সমালোচকদের মতে, এই কূটনীতি বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ—যেমন তিস্তা পানি বণ্টন বা সীমান্ত হত্যার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সুরাহা না করেই ভারতীয় নিরাপত্তা ও ট্রানজিট স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারতের সাথে কেবল বাস্তবসম্মত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এমন এক রাজনৈতিক সমান্তরালে পৌঁছে গিয়েছিল যাকে দেশের মানুষ 'অতিরিক্ত' মনে করত।

হাসিনার সরকার ভারতের সংবেদনশীল কোনো প্রশ্নে কখনোই উচ্চবাচ্য করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সমর্থকদের কাছে সুশৃঙ্খল কূটনীতি মনে হলেও বিরোধীদের কাছে ছিল দিল্লির মন জুগিয়ে চলার আত্ম-সেন্সরশিপ।

স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। হাসিনার প্রশাসন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এর বিনিময়ে তিনি দিল্লির সমর্থন পেলেও, দেশের ভেতরে কোনো সংসদীয় আলোচনা বা জনমতামতের তোয়াক্কা করা হয়নি। কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা ছিল আরও প্রকট। ট্রানজিট সুবিধা ভারত পেলেও বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্বেগের বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর কাঠামোগতভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা নীতিনির্ধারণী নমনীয়তাকে সংকুচিত করেছে।

কূটনৈতিকভাবে হাসিনার সরকার ভারতের সংবেদনশীল কোনো প্রশ্নে কখনোই উচ্চবাচ্য করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সমর্থকদের কাছে সুশৃঙ্খল কূটনীতি মনে হলেও বিরোধীদের কাছে ছিল দিল্লির মন জুগিয়ে চলার আত্ম-সেন্সরশিপ। তার দিল্লি প্রস্থান এবং মোদি সরকারের তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি এই বিশ্বাসকেই দৃঢ় করেছে যে, এই সম্পর্কটি প্রথাগত প্রতিবেশী সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।

একটি প্রয়োজনীয় 'রিসেট' বা সংস্কার

দীর্ঘ তিন দশক পর প্রথম কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এখন ভারত ও পাকিস্তানের সাথে জটিল সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের মুখে। সম্প্রতি এক জনসভায় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—বাংলাদেশ হবে সবার আগে।" এটি দিল্লি ও রাওয়ালপিন্ডি—উভয় পক্ষ থেকেই একটি কৌশলগত দূরত্বের ইঙ্গিত। তবুও হাসিনার পতনের পর থেকেই ইসলামাবাদের সাথে সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। ১৪ বছর পর করাচি-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সফরের ফলে বাণিজ্য প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারেক রহমানকে এখন ভারত-পন্থীদের পাশাপাশি সেই জনমতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে যারা আন্দোলনের সময়কার নৃশংসতায় সংক্ষুব্ধ। ভারতের প্রতি যেকোনো পদক্ষেপ এখন জনগনের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে থাকবে। বছরের পর বছর ধরে চলা 'ভারতীয় হস্তক্ষেপ'-এর ধারণা মানুষের মনে ভারত-বিদ্বেষ তৈরি করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক সভায় প্রতিফলিত হয়। তবে দেশের একটি বড় অংশ বাস্তবসম্মত সম্পর্কের পক্ষে, যারা বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝেন।


দিল্লিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ স্মৃতি পট্টনায়েক বিবিসিকে বলেছেন, হাসিনার সময়ে পাল্লা ভারতের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে ছিল; এখন তা আবার পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে তারেক রহমানের অবস্থানে এখন পর্যন্ত ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে। তিনি উভয় রাজধানী থেকেই শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের অগ্রগতি হয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে হাসিনাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি রহমানের জন্য একটি বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
তারেক রহমানকে এখন ভারত-পন্থীদের পাশাপাশি সেই জনমতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে যারা আন্দোলনের সময়কার নৃশংসতায় সংক্ষুব্ধ। ভারতের প্রতি যেকোনো পদক্ষেপ এখন জনগনের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে থাকবে। বছরের পর বছর ধরে চলা 'ভারতীয় হস্তক্ষেপ'-এর ধারণা মানুষের মনে ভারত-বিদ্বেষ তৈরি করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক সভায় প্রতিফলিত হয়। তবে দেশের একটি বড় অংশ বাস্তবসম্মত সম্পর্কের পক্ষে, যারা বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝেন।

পুরনো ধারণা ও আগামীর পথ

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের এই ম্যান্ডেট দক্ষিণ এশিয়ায় পুরনো ধারণাগুলো পরিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলকে আর কোনো নির্দিষ্ট শক্তির 'পেছনের উঠান' হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এই পরিবর্তন রাতারাতি না হলেও ধীরে ধীরে তা দৃশ্যমান হবে।
আগামী দিনে বাংলাদেশ সম্ভবত ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেও চীনের সাথে সম্পর্কের নতুন মাত্রা পরীক্ষা করবে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে হাসিনাতন্ত্রের একপাক্ষিক নীতি থেকে একটি বড় বিচ্যুতি। এর তাৎপর্য নাটকীয় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি বার্তা যে—বাংলাদেশ এখন স্বাধীনভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী অংশীদার নির্বাচন করবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র মূল লক্ষ্য হবে কোনো নির্দিষ্ট একক শক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করা। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পথে, যারা আর কোনো শক্তির কাছে 'গৃহীত' বা 'অপরিহার্য' (taken for granted) হিসেবে গণ্য হতে চায় না।

ভাষান্তর: মহিউদ্দীন মোহাম্মদ

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)