ড. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সত্তার এক অমলিন প্রতীক। শহীদ মিনারের পাদদেশে ফুল অর্পণ, কবিতা, গান ও শোকানুষ্ঠান—এসবই আমাদের সমষ্টিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো: আবেগ কি ইতিহাসের বিকল্প হতে পারে? যখন স্মরণ অনুষ্ঠান ইতিহাসের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণকে প্রতিস্থাপন করে, তখন জাতিস্মৃতি একধরনের আনুষ্ঠানিক পুনরাবৃত্তিতে রূপ নেয়।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে ঘিরে যে দলীয় মালিকানা ও একরৈখিক ব্যাখ্যার প্রবণতা গড়ে উঠেছে, তা ইতিহাসচর্চার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। ইতিহাস যদি রাজনৈতিক বৈধতা নির্মাণের যন্ত্রে পরিণত হয়, তবে তা আর সমালোচনামূলক জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্র থাকে না। বরং তা হয়ে ওঠে স্মৃতির কৌশলগত ব্যবস্থাপনা।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মহিমান্বিত অধ্যায় বটে, তবে সময়ের আবর্তে এই আন্দোলনের ইতিহাসকে নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে রাজনৈতিক বয়ানে অধিকতর আবদ্ধ করা হয়েছে। কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তার বিখ্যাত 'উটপাখি' কবিতায় যে অমোঘ সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজ আমাদের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এক গভীর ব্যঞ্জনা বহন করে:
"তাই অসহ্য লাগে ও-আত্মরতি।
অন্ধ হ'লে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?
আমাকে এড়িয়ে বাড়াও নিজেরই ক্ষতি।
ভ্রান্তিবিলাস সাজে না দুর্বিপাকে।"
ইতিহাসের সত্যের দিকে চোখ বন্ধ করে রাখলে সত্য মুছে যায় না, বরং সেই 'ভ্রান্তিবিলাস' আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের সংকটকে আরও ঘনীভূত করে। ৫২-র ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস চর্চা করা আজ বাংলাদেশে এক বড় বুদ্ধিবৃত্তিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিক সত্যকে পাশ কাটিয়ে যখন দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থকে বড় করে দেখা হয়, তখন গবেষণার চেয়ে ভজনাই মুখ্য হয়ে ওঠে। যারা তথ্যপ্রমাণ বা চাক্ষুষ সাক্ষীর ভিত্তিতে ইতিহাসের অপ্রিয় সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তাদের প্রায়ই সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা আসলে আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি বাড়াচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, ভাষা আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে রাজপথে পুলিশের গুলির ঘটনা ছিল না; এটি ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর থেকেই শুরু হওয়া এক দীর্ঘস্থায়ী লড়াই। কিন্তু গত কয়েক দশকে আমরা দেখেছি ইতিহাসকে সংকুচিত করে একটি মাত্র রাজনৈতিক ফ্রেমে বন্দি করার প্রবণতা। বুদ্ধিজীবী এবং ঐতিহাসিকদের একাংশ ক্ষমতা বলয়ের সুবিধাভোগী হতে গিয়ে ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাস থেকে অনেক মহানায়ককে মুছে ফেলেছেন। যখন ইতিহাস তার সামগ্রিকতা হারায়, তখন জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। সুধীন্দ্রনাথের সেই 'প্রলয়' আসলে চেতনার অভাবজনিত পতন, যা মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরার ফলে অনিবার্য হয়ে ওঠে।
২.
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস কোনো একক দলের বা নেতার কৃতিত্ব নয়, বরং এটি ছিল এক বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমন্বয়। ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে ১৪৪ ধারা ভাঙার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে রাজপথের লড়াইয়ে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের যে অবদান ছিল, তা অনেক সময় বস্তুনিষ্ঠভাবে আলোচিত হয় না।
অলি আহাদ ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম আপসহীন নেতা, যিনি ২০শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা না ভাঙার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমতলার সভায় ধারা ভাঙার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তার এই সাহসী ভূমিকা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আবদুল মতিন (ভাষা মতিন) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে রাজপথের লড়াইকে তুঙ্গে নিয়ে যান। গাজীউল হক আমতলার ঐতিহাসিক সভায় সভাপতিত্ব করে গণজোয়ার তৈরি করেন। অধ্যাপক আব্দুল গফুর তমুদ্দুন মজলিসের নেতা হিসেবে এবং 'সৈনিক' পত্রিকার মাধ্যমে এই লড়াইকে জনগণের প্রাণের দাবিতে রূপান্তর করেন। অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই তমুদ্দুন মজলিসের মাধ্যমে আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, যা ইতিহাসের পাতায় প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলার যৌক্তিক দাবি তুলেছিলেন, যা ছিল একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক পদক্ষেপ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও ভাষাতাত্ত্বিক সুরক্ষা প্রদান করে প্রমাণ করেছিলেন যে বাংলা ভাষা পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ভাষা হওয়ার যোগ্য।
এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক গোলাম আযমের ভূমিকাটিও ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস হিসেবে তিনি ১৯৪৮ সালের ২৪শে মার্চ কার্জন হলে জিন্নাহর উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবর্তনে ছাত্রদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঐতিহাসিক মানপত্র পাঠ করেছিলেন। তার নিজের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ 'জীবনে যা কিছু দেখলাম'-এ বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে জিন্নাহর প্রবল প্রতাপের সামনে দাঁড়িয়ে এমন দাবি তোলা ছিল এক অসীম সাহসিকতার পরিচয়।
এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮-এর আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং ৫২-র সময় কারাগারে থেকেও অনশনের মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। মওলানা ভাসানী, কাজী গোলাম মাহবুব, আতাউর রহমান খান এবং শওকত আলীর সাংগঠনিক দক্ষতা এই আন্দোলনকে মফস্বল থেকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল। নারী সমাজ থেকেও নাদেরা বেগম, সুফিয়া কামাল, হালিমা খাতুন ও রওশন আরা বাচ্চু সকল সামাজিক বাধা চূর্ণ করে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। রাজপথের মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত এবং কিশোর অহিউল্লাহর রক্ত ইতিহাসের গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল। কিন্তু আজ যখন আমরা কেবল হাতেগোনা কয়েকজনের স্তুতি গাই, তখন এই বিশাল জনবাহিনী ও তাদের নেতাদের প্রতি অবিচার করা হয়।
৩.
বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের একটি বড় সংকীর্ণতা হলো—অপ্রিয় সত্যকে স্বীকার না করা এবং ইতিহাসকে নিজের সুবিধামতো নতুন করে নির্মাণ করা। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় বলতে গেলে, এই ধ্বংসের দায়ভাগে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অংশীদার:
"আমি জানি এই ধ্বংসের দায়ভাগে
আমরা দুজনে সমান অংশীদার"
আমাদের এই 'অস্বীকারের সংস্কৃতি' জাতীয় চরিত্রকে নৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, 'সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।' কিন্তু আমরা সত্যের চেয়ে আরামদায়ক মিথ্যাকেই বেশি পছন্দ করি। প্রমথ চৌধুরী বাঙালির এই প্রবণতাকে 'মস্তিস্কের ব্যারাম' বলে চিহ্নিত করেছিলেন। বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফা সতর্ক করেছিলেন যে, একটি জাতি যদি তার বুদ্ধিবৃত্তিক সততা হারায়, তবে তার স্বাধীনতা কেবল ভৌগোলিক সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে, আত্মিক মুক্তি ঘটে না। সত্য অস্বীকার করার ফলে নতুন প্রজন্ম একটি বিকৃত ইতিহাস নিয়ে বড় হচ্ছে, যা তাদের বিচারবুদ্ধিকে ধ্বংস করে দেয়।
যখন কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে দেবতা হিসেবে এবং বাকিদের তুচ্ছ জ্ঞান করে ইতিহাস লেখে, তখন সেখানে গণতন্ত্রের চর্চা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ৫২-র চেতনায় যে গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাকে গত ১৭ বছরে চরমভাবে দলিত করা হয়েছে। ইতিহাসের সত্য ভাষ্যকারদের 'শত্রু' হিসেবে চিহ্নিত করার যে প্রবণতা, তা একটি জাতিকে অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দেয়। ৫২-র শহীদরা রক্ত দিয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত এবং ইনসাফ কায়েম হওয়ার রাষ্ট্রের জন্য, কেবল ভাষার নামফলক পরিবর্তনের জন্য নয়। আজ যখন আমরা দেখি সত্য বলার জন্য লেখকদের কারাবরণ করতে হয়, তখন সুধীন্দ্রনাথের 'উটপাখি' কবিতার সেই সতর্কবাণী আমাদের কপালে করাঘাত করে।
৪.
একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনার বীজ বপন করেছিল, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আমরা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও দেখতে পাই। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় রূপ নিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে বিশেষ করে বিগত দেড় দশকে স্বৈরাচারী শাসন এবং ইতিহাসের একচ্ছত্র মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে।
চব্বিশের আন্দোলনে ছাত্ররা যখন দেওয়ালে গ্রাফিতি আঁকছিল বা রাজপথে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিচ্ছিল, তখন তাদের অবচেতনে ৫২-র সেই আপসহীন মনোভাবই সক্রিয় ছিল। ৫২ শিখিয়েছিল রাষ্ট্র যখন মানুষের ভাষা বা সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে, তখন আনুগত্য নয় বরং বিদ্রোহই ধর্ম। ২০২৪ শিখিয়েছে রাষ্ট্র যখন ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার এবং সত্যের কণ্ঠরোধ করে, তখন গদি উল্টে দেওয়াও বৈধ। ৫২-র 'আমতলা' আর ২০২৪-এর 'শহীদ মিনার' বা 'শাপলা চত্বর' যেন একই ইতিহাসের নিরবচ্ছিন্ন অংশ।
চব্বিশের আন্দোলনেও আমরা দেখেছি কীভাবে তথ্যের অপলাপ করা হয়েছে, কীভাবে সত্যকে ধামাচাপা দিতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছে। সরকারি গণমাধ্যমগুলো যেভাবে মিথ্যার বেসাতি করেছিল, তা ৫২-র সময়কার 'মর্নিং নিউজ' বা 'আজাদ' পত্রিকার পাকিস্তানপন্থী প্রচারণার কথাই মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু ৫২-র মতোই ২০২৪ প্রমাণ করেছে যে, "অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না"। জনরোষের যে প্রলয় ৫ই আগস্ট সব মিথ্যাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে, তা মূলত অমর একুশেরই আধুনিক সংস্করণ। তরুণরা প্রমাণ করেছে যে তারা বিকৃত ইতিহাস ঘৃণা করে এবং সত্যের জন্য যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। ৫২-র ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৪-এর ইতিহাসকে কোনো দলীয় ফ্রেমে বন্দি না করে সত্যের দর্পণে উপস্থাপন করাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ। আবু সাঈদ বা মুগ্ধদের রক্ত ৫২-র সালাম-বরকতের রক্তের সাথেই মিশে একাকার হয়ে গেছে।
৫.
এই জাতিগত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন একটি সর্বাত্মক বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব। ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবার মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং তথ্যনির্ভর ইতিহাস গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই অন্যের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করার নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। ইতিহাস কোনো স্থির ভাস্কর্য নয়; বরং এটি একটি জীবন্ত প্রবাহ। নতুন তথ্যের আলোকে ইতিহাসকে সংশোধন করার মানসিকতাই একটি জাতিকে আধুনিক করতে পারে।
একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ বা আবেগীয় উৎসব নয়, এটি ছিল সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা। সব মত ও পথের যোদ্ধাদের অবদানকে নির্মোহভাবে স্বীকার করার মাধ্যমেই কেবল আমরা একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং সত্যনিষ্ঠ জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। আমাদের বদভ্যাসের অবসান ঘটিয়ে সত্যের পথে হাঁটার প্রতিজ্ঞা নিতে হবে আজই। সুধীন্দ্রনাথের ভাষায় সেই 'ভ্রান্তিবিলাস' ত্যাগ করে প্রলয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে আমাদের নতুন সত্যের মিনার গড়তে হবে। ৫২-র অপূর্ণ কাজগুলো—যেমন বাকস্বাধীনতা, সামাজিক ইনসাফ এবং বহুত্ববাদী গণতন্ত্র—তা ২০২৪-এর শক্তির মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই একুশের রক্ত দান সার্থক হবে।
ড. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ: কবি, গবেষক ও ধ্রুব নিউজের উপদেষ্টা সম্পাদক
তথ্যসূত্র:
● বশির আলহেলাল, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, বাংলা একাডেমি।
● বদরুদ্দীন উমর, পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
● অধ্যাপক গোলাম আযম, জীবনে যা কিছু দেখলাম (১ম ও ২য় খণ্ড)।
● সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, দশমী (উটপাখি কবিতা)।
● অলি আহাদ, জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৭-৭৫।
● তমুদ্দুন মজলিস স্মারক গ্রন্থ।
● আহমদ ছফা, বাঙালি মুসলমানের মন।
● রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শান্তিনিকেতন প্রবন্ধমালা।
● প্রমথ চৌধুরী, প্রবন্ধ সংগ্রহ।
● এম আর আখতার মুকুল, বায়ান্নর আন্দোলন।
● ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: সংবাদপত্রের আর্কাইভ ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ।
● তালুকদার মনিরুজ্জামান, The Bangladesh Revolution and Its Aftermath।