নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে যশোরের সাড়াপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর কুমার দাসের পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পরিস্থিতি পর্যালোচনায় যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সাইফুল আলম। আন্দোলন তদন্তে গিয়ে আগামী রবিবার থেকে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বিদ্যালয়ে এক অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে। শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ—প্রধান শিক্ষক ভূগোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিকভাবে পাঠদান করান না এবং ক্লাসে অসংলগ্ন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সাথে অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার, কারণে-অকারণে হুমকি প্রদান, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় এবং অতিরিক্ত প্রাইভেট পড়ার পাশাপাশি গাইড বই কেনার চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। একই সাথে ল্যাব সুবিধা না থাকা, রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়, আইসিটি ও পিকনিকের টাকা আত্মসাৎ এবং পাঠদান চলাকালে ক্লাসে খাদ্য গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে গত ১৯ আগস্ট প্রধান শিক্ষকের কক্ষে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও সিসিটিভি মনিটর সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে স্বাভাবিক পাঠদান স্থবির হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদ হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অব্যবস্থাপনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে শিক্ষকদের বিভিন্ন আর্থিক ভাতা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বহিরাগত লোক দিয়ে অর্থ আদায়, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণের বিষয় তুলে ধরে ইতিপূর্বে শিক্ষকরাও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর কুমার দাসও নানাভাবে নিপীড়ন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন বলে দাবি করেন শিক্ষকেরা।
সরেজমিনে তদন্ত শেষে যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সাইফুল আলম জানান, "সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসবেন না—আমরা শিক্ষার্থীদের এই নিশ্চয়তা দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্লাসে ফিরে যায়, সেই আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামী রবিবার থেকে নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।" পুরো বিষয়টি পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর কুমার দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।