বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিল মাত্র একজন। আর সেই এক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে। তবে সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো—ওইদিন বিকেলে পুরো যশোর শিক্ষা বোর্ডে এই একজনই মাত্র পরীক্ষার্থী ছিলেন!
গত সোমবার (২৭ জুলাই) চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এই বিরল ঘটনাটি ঘটেছে। আর পরীক্ষা দেওয়া সেই একমাত্র শিক্ষার্থী ছিলেন অনিয়মিত।
বোর্ডের অধীনে থাকা ১০টি জেলার ২৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে সোমবার বিকেলে কেবল খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিন ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার বিষয়টি ছিল ‘খাদ্য ও পুষ্টি ১ম পত্র’ (বিষয় কোড-২৭৯)।
একজন মাত্র পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র সচিবসহ তিন কর্মকর্তা, একজন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক, নিরাপত্তার জন্য একজন পুলিশ সদস্য এবং সহায়তার জন্য একজন আয়াকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এমনকি নিয়ম মেনে ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করতে হয়েছে। এতসব আয়োজন শেষে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও বোর্ডকে অপেক্ষায় থাকতে হয়।
একদিনে পুরো বোর্ডে মাত্র একজন পরীক্ষার্থীর এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে পরীক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের আওতায় মোট কতটি কলেজে এই বিষয়ের অনুমোদন রয়েছে, তা পরীক্ষা বিভাগের জানা নেই। এদিন শুধু একটি কেন্দ্রে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন—এটুকুই কেবল তাদের জানা ছিল।
বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম জানান, কোনো বিষয়ের অনুমোদনের বিষয়টি এখন আর শিক্ষাবোর্ডের এখতিয়ারে নেই, এটি সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়। তাই বোর্ডের ৫৭০টি কলেজের মধ্যে কোন কোনটিতে খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়টির অনুমোদন রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়।