নিজস্ব প্রতিবেদক
পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য যশোর সরকারি এম এম কলেজ কেন্দ্রে একটি ছাত্র সংগঠনের হেল্প ডেস্ক। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বেলা এগারোটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত শহরের পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সাত হাজার ৬৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম এম কলেজসহ সকল কেন্দ্রে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। পরীক্ষা আয়োজনে কলেজ প্রশাসনের তৎপরতা ছিল নজরকাড়া। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, কক্ষ বণ্টন, প্রশ্নপত্র বিতরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছুই ছিল সুপরিকল্পিত ও সময়ানুগ। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। পরীক্ষার্থীদের সব ধরনের সহযোগিতায় তারা সরব ছিল।
আগত পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল খারার পানি, শরবত ও স্যালাইনের ব্যবস্থা। জরুরী মটরসাইকেল সার্ভিস ব্যবস্থাও ছিল সময়মত কেন্দ্রে পৌঁছাতে।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সকল ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ।
যশোর এম এম কলেজ কলেজ কেন্দ্রে এবার অংশ নিয়েছেন মানবিক শাখার ১৭২৬ জন পরীক্ষার্থী, আব্দুল রাজ্জাক কলেজে ৮৯৩, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটিরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬০জন, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ৪৬১ জন, যশোর জেলা স্কুলে ৯৮৬ জন। বিজ্ঞান বিভাগে এম এম কলেজে ১৭২৫ জন, আব্দুল রাজ্জাক কলেজে ৮২১, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটিরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬০জন, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের মতে, এমন সুশৃঙ্খল পরীক্ষা তারা আগে দেখেননি।
কেশবপুর থেকে থেকে আসা পরীক্ষার্থী বদুরুজ্জামান বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মটরসাইকেল সার্ভিস সত্যিই অনেক উপকারে এসেছে। তারা পথনির্দেশনা দিচ্ছিলেন এবং সহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন।
পরীক্ষার্থী সোহাগ হাসান জানালেন, কলেজে প্রবেশের পর হেল্প স্টলে গিয়ে আমরা পরীক্ষার হলে যাবার দিকনির্দেশনা পেয়েছি। পানি ও কলমের ব্যবস্থা ছিল। এতে মানসিক চাপ কমে গেছে। শিক্ষার্থী সাবিনা খাতুন বলেন, সংগঠনের স্টলে গিয়ে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। মনে হয়েছে যেন পরিবারের কেউ পাশে আছে।
আরেক পরীক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ বলেন, পরীক্ষা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না। প্রশ্নপত্র ছিল মোটামুটি সহজ। আশা করছি এ কলেজেই ভর্তি হতে পারবো।
পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে কলেজের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। এর মধ্যে ছিল ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ও ছাত্রদল।
তারা কলেজ চত্বরে একাধিক সেবামূলক স্টল স্থাপন করে। পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল ফ্রি পানি, কলম, আসন খোঁজার সহায়তা, বাইক সার্ভিস ও তথ্যকেন্দ্র।
এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে অভিভাবকদের কাছেও। অভিভাবক মো. আজিজুল হক বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর ব্যবস্থা ছিল চমৎকার, তাতে আমরা অভিভাবকরা পরীক্ষার সময়টা স্বস্তিতে কাটাতে পেরেছি। এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ছেলেরা শৃঙ্খলভাবে কাজ করছিল। তারা আমাদের পানি দিয়েছে, বসার জায়গা দেখিয়েছে। এটা শিক্ষাঙ্গনের ইতিবাচক দিক; রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা।
ধ্রুব/এস.আই