শেখ জালাল
যশোর জেলায় অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া এই মেধা যাচাই লড়াই আজ ১৫ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হয়। জেলার ৮টি উপজেলার মোট ১ হাজার ৪৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ২৮০ জন শিক্ষার্থী এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৭০.৯৭ শতাংশ। পরীক্ষায় বড় একটি অংশ অনুপস্থিত ছিল; জেলার আটটি উপজেলা মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ৫৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
যশোর জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ২৮০ জন। এবারের পরীক্ষায় ৫ হাজার ১২৭ জন ছাত্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৩১ জন অনুপস্থিত ছিল। আর ৭ হাজার ১৫৩ জন ছাত্রীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩৪ জন। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জি এম আলমগীর কবীর স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপস্থিতির হারের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বাঘারপাড়া উপজেলা। এই উপজেলায় উপস্থিতির হার ৮০.৮৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম উপস্থিতির হার রেকর্ড করা হয়েছে অভয়নগর উপজেলায়, মাত্র ৬৪.৭৬ শতাংশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ১৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়: কেশবপুর উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৭৫৭ জন, অনুপস্থিত ৩৫৫ জন। অভয়নগর উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৬৬৭ জন (তথ্য সংশোধন সাপেক্ষে), অনুপস্থিত ৩৬৩ জন। চৌগাছা উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৬৬৮ জন, অনুপস্থিত ৩৪৭ জন। ঝিকরগাছা উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৩১২ জনের মধ্যে অংশ নিয়েছে ৯৬৮ জন, অনুপস্থিত ৩৪৪ জন। বাঘারপাড়া উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৫৬ জনের মধ্যে অংশ নিয়েছে ৯৮৪ জন, অনুপস্থিত ১৭২ জন। মণিরামপুর উপজেলার ৩টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ হাজার ৩৭৭ জন, অনুপস্থিত ৪৬৫ জন। শার্শা উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০ জনের মধ্যে অংশ নিয়েছে ৫৬২ জন, অনুপস্থিত ৫১৮ জন। যশোর সদর উপজেলার ৪টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ২৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ২ হাজার ২৬৬ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৩২ জন।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জি এম আলমগীর কবীর জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এই পরীক্ষা শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে।