রমজান আলী, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যেখানে বাংলাদেশের ইলিশ ছাড়া ওপার বাংলার ভোজনরসিকদের উৎসব জমে ওঠে না, সেখানেই এখন দেখা মিলছে এক উল্টো চিত্রের। ইলিশের দেশে এখন ভারত থেকেই দেদার আমদানি করা হচ্ছে ইলিশ। তবে সস্তার এই ভারতীয় ইলিশ এনে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন চাঁদপুর, বরিশাল কিংবা পদ্মার ইলিশ পরিচয়ে। কেজিপ্রতি প্রায় ৫১৪ টাকায় আমদানি করা মাছ দেশের বাজারে বিকোচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্য মতে, গত দুই মাসে ভারতের গুজরাতের ভরুচ এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ভারত থেকে আসা এই ইলিশের একটি অংশ সরাসরি বাজারে বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি ও নোনা ইলিশ তৈরি করা হচ্ছে।
হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, সাধারণত বাংলাদেশ থেকেই ভারতে বিভিন্ন জাতের মাছ যায়। কিন্তু এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা থাকায় গুজরাত থেকে এসব মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারতীয় ইলিশ দেশে এসেছে। প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা মূল্যের এই মাছ ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এসেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম জানান, আমদানিকৃত মাছ নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেই কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আমদানি করা এই ইলিশ দেশি ইলিশের নামে চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বেনাপোল বাজারের ক্রেতা মো. মহিউদ্দিন জানান, দেশি ইলিশ ভেবে কিনে রান্নার পর স্বাদে পার্থক্য বুঝতে পেরেছেন। আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা কখনো চাঁদপুর, কখনো বরিশাল বা চট্টগ্রামের ইলিশ বলে ভারত থেকে আনা মাছ গছিয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে বাজার তদারকির জোর দাবি জানান তিনি।
বর্তমানে বেনাপোলের বাজারে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও একই আকারের ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
তবে আমদানিকারকরা দাবি করছেন, তারা এলসির মাধ্যমে সরকারি শুল্ক দিয়ে বৈধভাবেই মাছ আনছেন। বাজারে এটি কোন নামে বিক্রি হচ্ছে তা দেখার দায়িত্ব তাদের নয়। বাজারে কৃত্রিম প্রতারণা রুখতে ও সাধারণ ক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ চান স্থানীয়রা।