বেনাপোল প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ভারত থেকে ‘কোয়ার্টজ পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রার কাঁচামাল এনেছিল একটি চক্র। মিথ্যা ঘোষণায় আনা এই চালানটি জব্দ করেছে বেনাপোল কাস্টমস। চালানের ভেতরে ভায়াগ্রা ছাড়াও বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধের অননুমোদিত কাঁচামাল পাওয়া গেছে।
উচ্চমূল্যের এই মালামাল কাস্টমসের নজর এড়িয়ে বন্দর থেকে চুরির বা সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এর আগেও এই বন্দর থেকে পণ্য পাচারের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এই পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই এবার বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যগারে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কাস্টমসের অনুরোধে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানে আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও নিজস্ব গোয়েন্দা মোতায়েন করেছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মেসার্স আরাফাত এন্টারপ্রাইজ ভারত থেকে প্রায় ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। কাস্টমস কর্মকর্তারা গোপন সংবাদ পেয়ে বন্দরের ৩২ নম্বর শেডে রাখা চালানটির ওপর নজরদারি বাড়ান। পরে কায়িক পরীক্ষা ও ল্যাব টেস্টে জালিয়াতি ধরা পড়ে।
জব্দ করা চালানে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট বা ভায়াগ্রার কাঁচামাল রয়েছে। এর সাথে ৮ হাজার ২০০ কেজি কোয়ার্টজ পাউডার পাওয়া গেছে। এছাড়া চালানে ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট, এটোরিকক্সিব, হাইড্রোকুইনোন, ওমিপ্রাজল, মন্টেলুকাস্ট সোডিয়াম, সেফট্রিয়াক্সন সোডিয়াম ও ক্যাফেইনসহ আরও কয়েক পদের ওষুধের কাঁচামাল রয়েছে।
সহকারী কাস্টমস কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, চালানটি নিয়ে আইনি কার্যক্রম চলছে। তবে একটি চক্র এটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই নিরাপত্তা বাড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শেডে অতিরিক্ত রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালে জব্দ হওয়া আরেকটি ভায়াগ্রার চালানের শেডেও পাহারা বাড়ানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরে স্ক্যানিং সুবিধা থাকার পরও অসাধু চক্র মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ পণ্য আনছে এবং পূর্বের চুরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করছে। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এসব নিয়ন্ত্রিত কাঁচামাল বাজারে ঢুকলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ত। এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা দরকার। স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য সৎ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে অনেকে এই বন্দর ব্যবহার ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, কাস্টমসের অনুরোধে সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আনসার ও গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে কোনো শিথিলতার সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে আনা অন্য একটি চালানে ২ হাজার ৭০০ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামাল ধরা পড়েছিল। সেটিও এখনো পাচারের হাত থেকে রক্ষা করতে বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রাখা রয়েছে।