বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
ঘাসের বীজের ঘোষণা দিয়ে আমদানিকৃত চালানে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে আনা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ পাটবীজ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে জালিয়াতির এক নতুন কৌশল উন্মোচিত হয়েছে। ঘাসের বীজের ঘোষণা দিয়ে আমদানিকৃত চালানে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে আনা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ পাটবীজ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বেনাপোল বন্দরের ১৫ নম্বর শেডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই বিশাল অবৈধ চালানটি জব্দ করেন উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।
অভিযোগ উঠেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'আরাফাত এন্টারপ্রাইজ' যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারত থেকে ৪৫ মেট্রিক টন ঘাসের বীজ আমদানির ঘোষণা দেয়। তবে সেই আমদানির আড়ালে ১৭ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ পাটবীজ পাচার করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। শুল্ক ও নিরাপত্তা বলয়কে ফাঁকি দিতে বস্তার ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই মূল্যবান বীজ।
বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান, প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে চালানটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হলে এই বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়ে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমদানিকৃত পাটবীজটি বাংলাদেশে বর্তমানে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণেই তা জব্দ করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধ পণ্য আমদানির মাধ্যমে দেশের বাণিজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, আমদানি বাণিজ্যের এই জালিয়াতি কেবল রাজস্ব ফাঁকিই নয়, বরং দেশের কৃষি খাতের জন্য এক বড় হুমকি। অননুমোদিত ও নিম্নমানের বীজ দেশের মাটিতে ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে। এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আমদানি কারবারে স্বচ্ছতা আনার দাবি তুলেছেন তারা।