নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক দুই নারীি কর্মী ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চিকিৎসা সামগ্রী চুরির অভিযোগে দুই নারী কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে এক পরিচ্ছন্নকর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর সহযোগীকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন— হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নকর্মী নাদিরা (৪০) এবং সার্জারি ওয়ার্ডের আয়া জ্যোতি (৪০)। তারা দুজনেই যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা।
অভিযুক্তরা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুরে পরিচ্ছন্নকর্মী নাদিরা একটি বড় কার্টনে সরকারি চিকিৎসা সামগ্রী লুকিয়ে রিকশাযোগে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে হাসপাতাল ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ৩ নম্বর গেটের সামনের সড়কে রিকশাটি থামিয়ে তল্লাশি চালান।
তল্লাশিকালে ওই কার্টন থেকে ১০টি ছোট বক্সে সংরক্ষিত ১ হাজার পিস সিরিঞ্জ এবং ৪টি বক্সে থাকা ৪৮ পিস প্লাস্টার উদ্ধার করা হয়। সরকারি মালামাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলেই নাদিরাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিচ্ছন্নকর্মী নাদিরা স্বীকার করেন, এই চুরির চক্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন সার্জারি ওয়ার্ডের আয়া জ্যোতি। তারা দুজনে মিলে সরকারি এই চিকিৎসা সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে পাচারের পরিকল্পনা করেছিলেন। নাদিরার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আয়া জ্যোতিকেও আটক করে
আটকের পর উদ্ধারকৃত মালামালসহ দুই কর্মীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পীর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করার পর, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযুক্তদের কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, জনগণের সেবার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি মালামাল ব্যক্তিগত স্বার্থে পাচারের এই চেষ্টা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই চুরির ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সরকারি মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এই চুরির সঙ্গে অন্য কোনো বড় চক্র জড়িত আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির পর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন করে কঠোরতা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।