Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আলমগীর হত্যা: ১৮ মামলার মনিরুলের লোমহর্ষক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ১ মার্চ,২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
আলমগীর হত্যা: ১৮ মামলার মনিরুলের লোমহর্ষক জবানবন্দি

বাইকসহ আটক ১৮ মামলার আাসমী মনিরুল ছবি: ধ্রুব নিউজ

শহরের অলিগলি তার মুখস্থ। কাঁধে ঝুলছে ১৭টি মামলা, যার মধ্যে হত্যা আর অস্ত্রের দাগ লেগে আছে পরতে পরতে। তবুও গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে খুনের পর দিব্বি বুক ফুলিয়ে শহরে ঘুরছিলেন আসামি মনিরুল ইসলাম। ভেবেছিলেন, হয়তো এবারও পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ডিবি পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর আদালতে দাঁড়িয়ে একে একে ফাঁস করে দিলেন সেই রক্তক্ষয়ী ‘ক্লিং মিশনের’ আদ্যোপান্ত।

যশোরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে মনিরুল ছিলেন এই কিলিং মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে জানিয়েছেন, মনিরুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১৭টি মামলা ছিল। আলমগীর হত্যাকাণ্ডের পর এটি ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। শনিবার রাতে ঝুমঝুমপুর মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মনিরুলের দেখানো পথেই উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেলটি।

গল্পের খলনায়ক হিসেবে আগেই উঠে এসেছে নিহতের আপন জামাতা পরশ-এর নাম। জামাতা হয়ে শ্বশুরকে সরাতে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন তিনি। খুনের দিন বিকেলে মূল শুটার মিশুককে দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ টাকা আর একটি চকচকে পিস্তল। বাকি টাকার জন্য খুনের রাতেই শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার করে ৪ লাখ টাকা জোগাড় করা হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে ১০-১২ জনের একটি বিশাল টিম নিয়ে মাঠে নামে ঘাতকরা।

৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা। আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে ঢুকতেই তার পেছনে আঠার মতো লেগে যায় তিনটি মোটরসাইকেল। প্রথম বাইকে ছিল অমিত ও মূল শুটার মিশুক। দ্বিতীয় বাইকে আরও দুইজন সহযোগী। তৃতীয় বাইকে শাহীন কাজী ও মনিরুলসহ তিনজন।

আলমগীর হোসেন যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছান, ঠিক তখনই চলন্ত বাইক থেকে ট্রিগার চাপে শুটার মিশুক। লুটিয়ে পড়েন আলমগীর। নিমিষেই ঘাতকরা তিন দিকে সটকে পড়ে। মনিরুলসহ শাহীন কাজীর বাইকটি বটতলার দিকে মিশে যায় ভিড়ের মধ্যে।

রোববার আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ভিড়। সেখানে আসামি মনিরুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বিচারক জবানবন্দি শেষে তাকে সোজা জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ৫ জনকে আটক করা হলো: ১. জামাতা পরশ, ২. সহযোগী সাগর, ৩. মূল শুটার মিশুক, ৪. শাহীন কাজী এবং ৫. সর্বশেষ এই মনিরুল।

আটকদের মধ্যে ৩ জনই আদালতে দাঁড়িয়ে খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। ১৮ মামলার আসামি হয়েও শেষমেশ আইনের হাত থেকে নিস্তার মেলেনি মনিরুলের।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)