নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঝিকরগাছার হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর জুয়েল হত্যা মামলায় চাচা আব্দুল মান্নান মান্নুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আসামির ছেলে আলম হোসেনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান মান্নু ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের মৃত আফসার আলী মোড়লের ছেলে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি নুর-ই আলম পান্নু।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আব্দুল মান্নান মান্নুর সাথে তাঁর ছোট ভাই হাকিম মোড়লের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি।
২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে মান্নানের সঙ্গে ছোট ভাই হাকিম মোড়লের পুনরায় কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় মান্নানের ছেলে আলমসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং হাকিমের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মারামারির একপর্যায়ে মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে ভাই হাকিমকে আঘাত করেন মান্নু।
এ সময় মারামারি থামাতে এগিয়ে আসেন হাকিমের বড় ছেলে জুয়েল। মান্নু কাঠের টুকরো দিয়ে জুয়েলের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর মান্নুর ছেলে আলমসহ কয়েকজন তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। গুরুতর আহত জুয়েলকে প্রথমে যশোর এবং পরবর্তীতে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা হাকিম মোড়ল বাদী হয়ে ভাই মান্নু, ভাতিজা আলম হোসেনসহ ৮ জনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩১ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন বিশ্বাস এজাহারনামীয় ৮ জন আসামির বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আসামি আব্দুল মান্নান মান্নুর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে তাঁর ছেলে আলম হোসেনকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত উভয় আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।