নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের চৌগাছায় স্বামীর সাথে লাইভ ভিডিও কলে থাকাকালীন গৃহবধূ সেফা খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় আদালতে প্ররোচনার মামলা হয়েছে। নিহত নববধূর মা আসমা খাতুন বাদী হয়ে চৌগাছা আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার একমাত্র আসামী খালিদ বিন ওয়ালিদ সেতু চৌগাছার চুটাহুদা সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের সাফাউজ্জামানের ছেলে।
আদালতের বিচারক রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য চৌগাছা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান সোহাগ।
মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল খালিদ বিন ওয়ালিদ সেতুর সাথে পারিবারিকভাবে সেফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে সোনার গহনা কম দেওয়ার ওজুহাতে সেফাকে মানসিক নির্যাতন করতে থাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী কাজের কথা বলে সেফার প্রবাসী বাবার কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী সেতু। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে সেফাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়। গত ৬ জুন সেফা তার নানা সদর আলীকে ফোনে জানান, সংসার টেকাতে হলে বাবার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এনে দিতে হবে। সেতু প্রায়ই সেফাকে বলতেন, টাকার জন্যই তাকে বিয়ে করা হয়েছে এবং টাকা না পেলে তাকে তালাক দিয়ে তিনি অন্য জায়গায় বিয়ে করবেন।
পরদিন ৭ জুন দুপুরে সেফার সাথে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সেতু আবারও তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেন এবং তার জন্য নতুন মেয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান। স্বামীর এমন নিষ্ঠুর আচরণের মুখে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সেফা। সেতু ভিডিও কলেই এই দৃশ্য দেখছিলেন। পরে সেফার বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে সেতু ভিডিও কল কেটে দেন। মুমূর্ষু অবস্থায় সেফাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্থানীয়ভাবে এই নৃশংস ঘটনার বিচার না পেয়ে অবশেষে নিহতের মা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।