Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আপনার প্রিয় লবস্টার কি যন্ত্রণায় কাতর? রান্নার প্রথা নিয়ে বড় প্রশ্ন!

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ মে,২০২৬, ০২:৪০ পিএম
আপনার প্রিয় লবস্টার কি যন্ত্রণায় কাতর? রান্নার প্রথা নিয়ে বড় প্রশ্ন!

সামুদ্রিক লবস্টার। ছবি: সংগৃহীত

এতদিন ধারণা করা হতো মাছ বা খোলসযুক্ত জলজ প্রাণীদের মানুষের মতো ব্যথা অনুভব করার সক্ষমতা নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, লবস্টার বা গলদা চিংড়ি শুধু যে ব্যথা পায় তা-ই নয়, মানুষের মতো তাদেরও রয়েছে তীব্র স্নায়ুবিক যন্ত্রণাবোধ। আর এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রান্নার জন্য জীবন্ত চিংড়ি বা কাঁকড়াকে ফুটন্ত পানিতে ফেলার প্রচলিত প্রথা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল প্রাণীবিজ্ঞানী এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন, যা বিখ্যাত 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলটি কয়েকটি 'নরওয়ে লবস্টার'-এর ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেগুলোকে অত্যন্ত মৃদু মাত্রার বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়—যে মাত্রার শক একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর।

পরীক্ষায় দেখা যায়, শক পাওয়ার সাথে সাথে লবস্টারগুলো তাদের লেজ উল্টে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'টেইল-ফ্লিপ এস্কেপ রেসপন্স'। এটি মূলত তীব্র যন্ত্রণার বিরুদ্ধে প্রাণীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটি ছিল এর পরবর্তী ধাপ। গবেষকরা ওই লবস্টারগুলোকে ব্যথানাশক ওষুধ (পেইনকিলার) প্রয়োগ করার পর পুনরায় একই মাত্রার বৈদ্যুতিক শক দেন। দেখা গেছে, ওষুধ ব্যবহারের পর লবস্টারগুলো আর আগের মতো ছটফট করেনি বা পালানোর চেষ্টা করেনি। এই পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এসব প্রাণীর ব্যথা অনুভব করার প্রক্রিয়া এবং মানুষের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া আশ্চর্যজনকভাবে এক।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এলেফথেরিওস ক্যাসিউরাস এক বিবৃতিতে জানান, এই সংবেদনশীলতা শুধু লবস্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গলদা, বাগদা থেকে শুরু করে কাঁকড়াসহ সকল 'দশপদী খোলসযুক্ত' প্রাণীই সমানভাবে ব্যথা অনুভব করে।

ক্যাসিউরাস বলেন, "যেহেতু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে এরা ব্যথা পায়, তাই রান্নার জন্য এদের জীবন্ত ফুটন্ত পানিতে ফেলে দেওয়া চরম নিষ্ঠুরতা। এই প্রথাটি বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।"

বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই লবস্টার বা চিংড়ি জীবন্ত রান্না করা একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। বাবুর্চিদের দাবি, এতে মাংসের স্বাদ ও মান অটুট থাকে। তবে এই নতুন গবেষণার পর পশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো সোচ্চার হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো কিছু দেশ ইতিমধ্যে লবস্টারকে জীবন্ত সেদ্ধ করার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিজ্ঞানীদের পরামর্শ, রান্নার আগে প্রাণীটিকে অচেতন করে নেওয়া বা মানবিক কোনো উপায়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা এই চরম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়।

ধ্রুব/এস.আই

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)