ধ্রুব ডেস্ক
ফাইল ছবি ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেনএক লাখ ৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮০৫ ভোট। এ নিয়ে টানা ৪৭ বছর আসনটি বিএনপির অধরা থেকে গেলো। এবারো বৃত্ত ভাঙ্গতে ব্যর্থ হলো বিএনপি। এবার অবশ্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে সামনে আনতে চান অনেকে। সর্ব শেষ ১৯৭৯ সালে বিএনপির টিকিটে সাতক্ষীরা শ্যামনগর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. আফতাবুজ্জামান। পরে তিনি সরকারের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা পরিতোষ মণ্ডল অভিযোগ করছেন, ভোটের একদিন আগে বিএনপির অন্তত ৪জন নেতা তাদেরকে (হিন্দু সম্প্রদায়) ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন। সেখানে পরিতোষ মণ্ডলের দাবি, বিএনপি প্রার্থী পাস করলে ইফতেখার আলী ও আব্দুল ওয়াহেদ নামে জেলা ও উপজেলা বিএনপির দু’নেতার ক্যারিয়ার ধ্বংস হবে বলে তাদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে অনুরোধ করা হয়।
বিএনপি সুযোগ যে হাতছাড়া করলো তা নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির আক্ষেপ করেছেন। তার মতে, মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে বিএনপির একটি অংশের নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুসারীরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় বিএনপির জন্য সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলো।
উপজেলার কৈখালী ইউনিয়ন জামায়াত কর্মী সফি গাজীর মতে, উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা ও তার অনুসারী ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন।
তাছাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুর রউফের ভাষ্য, মাসুদুল আলমের বাবা আব্দুল ওয়াহেদ মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে তারা নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে উৎসাহ দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদ আলমের দাবি, জামায়াতের এক প্রথম সারির নেতা এবং তার এক নিকটাত্মীয় তাকে জানান যে, বিএনপির একটি অংশ তাদের সমর্থন দিয়েছে।
এ বিষয়ে মাসুদুল আলমের বাবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, এসব ফালতু কথা। আমার মতো দায়িত্বশীল মানুষের পক্ষে এসব কথা বলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইফতেখার আলী বলেন, একই দিনে দুটি কর্মসূচি থাকার কারণে ৯ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর জনসভায় না যেতে পারায় তাকে শ্যামনগরের বিষয়ে টানা উচিত হবে না।
বিএনপি প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিএনপির কিছু নেতার গোপন বিরোধিতায় তাদের নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংগৃহীত কিছু তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।