ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন ও মিশরের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেন স্পেনের কিছু সমর্থক ছবি: সংগৃহীত
স্প্যানিশ সমর্থকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে কড়া মাশুল গুনতে হচ্ছে স্পেন ফুটবল ফেডারেশনকে (আরএফইএফ)। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের জরিমানা ও গ্যালারি আংশিক বন্ধের শাস্তি দিয়েছিল। সেই শাস্তির বিরুদ্ধে আরএফইএফের করা আপিলও খারিজ করে দিয়েছে ফিফা। ফলে এবার বিশ্ব ফুটবলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশি আদালতে (সিএএস) যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।
ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চের এক বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে। বার্সেলোনার কাছাকাছি অবস্থিত আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মুসলিমপ্রধান দেশ মিসরের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। কিন্তু ম্যাচের সময় স্প্যানিশ সমর্থকদের একটি অংশ গ্যালারিতে বিতর্কিত ও ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দিতে শুরু করে। তারা বলতে থাকে—‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম।’
দ্বিতীয়বার এই ধরনের স্লোগান ওঠার পর স্টেডিয়ামের মাইকে সমর্থকদের সতর্ক করা হয় এবং স্কোরবোর্ডে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শন করা হয়। এমনকি স্পেনের তরুণ মুসলিম তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামালও তৎকালীন সময়ে এই আচরণের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। তিনি দায়ী সমর্থকদের ‘অজ্ঞ ও বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়ে ঘটনাটিকে চরম অসম্মানজনক হিসেবে অভিহিত করেন। এর পরপরই তদন্তে নামে স্প্যানিশ পুলিশ এবং ফিফা শুরু করে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া।
তদন্ত শেষে ফিফা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করে। পাশাপাশি স্পেনের পরবর্তী যেকোনো ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে স্টেডিয়ামের অন্তত ১৫ শতাংশ আসন ফাঁকা (বন্ধ) রাখার নির্দেশ দেয়।
আরএফইএফের মূল যুক্তি ছিল, ‘মুসলিম’ শব্দটি নিজে অপমানজনক নয়। তাই এটি ফিফার বৈষম্য ও বর্ণবাদবিরোধী (১৫ নম্বর) ধারার আওতায় না ফেলে রাজনৈতিক বা আপত্তিকর বার্তাসংক্রান্ত (১৭ নম্বর) ধারায় দেখা উচিত। তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিফার মতে, কোনো শব্দ সরাসরি গালি না হলেও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে যদি তা কাউকে হেয়, বিদ্রূপ বা অসম্মান করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে তা পরিষ্কারভাবেই বৈষম্যমূলক আচরণ।
ফিফার কাছে করা আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর স্প্যানিশ ফেডারেশন এবার সিএএসে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএফইএফের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই আরএফইএফ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল। নিজস্ব পর্যবেক্ষণ দলের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করে ম্যাচ অফিসিয়ালদের জানানো হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের তদন্তেও আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। ফলে পরবর্তীতে সেটির কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটেনি, এমনকি সাধারণ দর্শকেরাও সেই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।”
স্প্যানিশ ফেডারেশনের দাবি, ফিফার দেওয়া এই শাস্তি অতিরিক্ত কঠোর। পূর্বে অন্যান্য অনেক গুরুতর ঘটনা কিংবা বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গের নজির রয়েছে এমন দেশের ক্ষেত্রেও একবারে গ্যালারি বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। সেই যুক্তিতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং শাস্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে তারা সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতে রিট করতে যাচ্ছে।