ক্রীড়া ডেস্ক
অর্থনৈতিক অনিয়ম, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং ফুটবল তহবিলের ভয়াবহ দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় দুই সাবেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রধানকে আজীবনের জন্য ফুটবলসংক্রান্ত সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নৈতিকতা কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল ও মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের (এফএএম) সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফিফার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ফিফা বিচারক প্যানেল জানিয়েছে, মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেলের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি এবং ফিফায় বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর্থিক অপরাধের পাশাপাশি ক্যাসেলের বিরুদ্ধে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত ও তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার গুরুতর অভিযোগও ছিল। এ কারণে আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। ক্যাসেলের দীর্ঘদিনের সহযোগী ও অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজকেও একই মামলায় ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হিউজ অবৈধ লেনদেনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন।
ক্যাসেল ও হিউজ জুটি দীর্ঘদিন ধরে মন্টসেরাটের ফুটবলে অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের গত এপ্রিলে দেশটির স্থানীয় আদালতে কর ফাঁকির মামলায় অপরাধ স্বীকার করেন তারা। এর আগে ২০১১ সালেও তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ বিন হাম্মামের পক্ষে ভোট কিনতে ক্যারিবীয় ফুটবল কর্তাদের ৪০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ার কেলেঙ্কারিতে এই ক্যাসেলের নাম জড়িয়েছিল। প্রতি বছর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে অন্তত ২০ লাখ ডলার অনুদান পেত মন্টসেরাট, যা তাদের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ভেস্তে যাচ্ছিল। উদ্ভূত প্রশাসনিক সংকট কাটাতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মন্টসেরাট ফুটবল পরিচালনায় একটি জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা দল বসাতে বাধ্য হয় ফিফা।
অন্যদিকে, মালদ্বীপের ফুটবল প্রধান বাসাম আদিল জালিলের অপরাধটি ছিল আরও গুরুতর। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারির সংকটে ফুটবলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সদস্য দেশগুলোকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত কোভিড-১৯ ত্রাণ সহায়তা দিয়েছিল ফিফা। জালিল সেই সংকটকালীন জরুরি তহবিলের প্রায় ১২ লাখ ডলার তছরুপ করে নিজের ব্যক্তিগত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনায় ব্যয় করেন। মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দেশের আদালতেও তার বিচার হয় এবং তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ফিফা তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা ধার্য করেছে। জালিলের এই অর্থ আত্মসাতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, ভুয়া নথি তৈরি এবং তদন্তকারী দলকে বিভ্রান্ত করার দায়ে মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে সংস্থাটি।