ক্রীড়া ডেস্ক
জুনিয়র-বি নারী বিভাগে ২০০ মিটার ডিটিটি এবং ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টে রৌপ্য পদক জয়ী সাওয়ানা খন্দকার ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তরুণ স্পিড স্কেটার সাওয়ানা খন্দকার। চীনের লিশুই শহরে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ‘২০২৬ ওয়ার্ল্ড স্কেট এশিয়া স্পিড ট্র্যাক সিরিজ’-এ জুনিয়র ক্যাটাগরিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জোড়া রৌপ্য পদক জয় করেছেন তিনি। প্রায় দুই হাজার বিশ্বমানের স্কেটারের সঙ্গে লড়াই করে সাওয়ানার এই ডাবল সিলভার জয়ের মধ্য দিয়ে এশীয় ব়্যাংকিং-এ অষ্টম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাওয়ানা জুনিয়র-বি নারী বিভাগে ২০০ মিটার ডিটিটি এবং ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টে রানার্স-আপ হয়ে এই সাফল্য অর্জন করেন। ২০১৫ সাল থেকে স্কেটিং ট্র্যাকে পথচলা শুরু করা এই তরুণীর ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ক্লাব পর্যায় মিলিয়ে মোট ট্রফির সংখ্যা এখন ২৯টি। চীনের মাটিতে এটিই ছিল সাওয়ানার প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, যেখানে অভিষেকেই বাজিমাত করেছেন তিনি।
সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের মেয়ে সাওয়ানা জানান, "এই জয় শুধু আমার একার নয়, পুরো বাংলাদেশের। সরকারি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে স্কেটিংয়ে অলিম্পিক থেকেও পদক এনে দেওয়া সম্ভব।" পড়াশোনার পাশাপাশি ট্র্যাকে এই মেধা প্রমাণের পেছনে মা মোরশেদা ইয়াসমিন ও বড় বোন সুরাইয়া খন্দকারের সার্বক্ষণিক সমর্থনের কথা স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্মোচনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাওয়ানা।
সাওয়ানার জোড়া রৌপ্য ছাড়াও এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি স্কেটাররা সার্বিকভাবে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। টুর্নামেন্ট শেষে বাংলাদেশ মোট ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক সংগ্রহ করে। সিনিয়র পুরুষ বিভাগে ১০০০ মিটার রেসে মাহমুদ হোসাইন একটি রৌপ্য জিতেন। অন্যদিকে জুনিয়র-এ পুরুষ বিভাগে ৫০০০ মিটার রেসে ইরাব মুক্তাদির একটি রৌপ্য এবং ২০০ মিটার ডিটিটি-২ ও ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টে আরও দুটি ব্রোঞ্জ পদক এনে দেন। দলগত এই ধারাবাহিকতায় ১২ জন বাংলাদেশি স্কেটার চতুর্থ থেকে অষ্টম স্থানের মধ্যে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেন।
বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান এই সাফল্যকে অপ্রত্যাশিত ও ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান, রাশিয়া ও আয়োজক চীনের মতো বিশ্বের সেরা প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত দলের প্রতিযোগীদের টপকে পদক ছিনিয়ে আনা আমাদের খেলোয়াড়দের অদম্য চেষ্টার প্রমাণ।
দেশের খেলাধুলা বোদ্ধাদের মতে, স্কেটিং খেলাটি বাংলাদেশে এখনও সেভাবে পরিচিতি পায়নি। তবে প্রান্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ট্র্যাকে বাংলাদেশ আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের সরাসরি দৃষ্টি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবি জানিয়েছেন ফেডারেশন সংশ্লিষ্টরা।