ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল মাঠে সামান্য ছোঁয়া লাগলেই কিংবা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গোলরক্ষকদের মাঠে শুয়ে পড়ার দৃশ্য নতুন কিছু নয়। মূলত খেলার গতি মন্থর করতে বা বিরতির সুযোগ নিয়ে ডাগআউট থেকে কোচের কৌশলগত পরামর্শ পেতেই এমন 'চোটের ভান' করে থাকেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিরক্তিকর প্রথা এবার বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আগামী মৌসুম থেকেই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলে পরীক্ষামূলকভাবে এক যুগান্তকারী নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট লিগ কাপের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে এই নতুন আইনের আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ শুরু হবে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গোলরক্ষক মাঠে চোটের কারণে খেলা থামিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলে, তাকে অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে গিয়ে অবস্থান করতে হবে। আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে আগে থেকেই এমন বিধান চালু থাকলেও, এবার গোলরক্ষকদেরও এই নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে। এফএ তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোলরক্ষকদের এই কৌশলগত ইনজুরি প্রতিপক্ষের ছন্দপতন ঘটানোর পাশাপাশি খেলার স্বাভাবিক গতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাছাড়া এই অবসরে দলের অন্য খেলোয়াড়রা টেকনিক্যাল এরিয়া থেকে নতুন করে নির্দেশনাসহ কৌশল সাজানোর অন্যায্য সুযোগ পেয়ে থাকেন। খেলার মাঠে এমন নেতিবাচক প্রভাব দূর করে স্বাভাবিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরো মৌসুম জুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ইংল্যান্ডের ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও আইএফএবি।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে গোলরক্ষকদের এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। এই নিয়মে বেশ কিছু যৌক্তিক শিথিলতা বা ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যদি কোনো গোলরক্ষক প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হয়ে চোট পান, মাঠের অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে দুজনেরই চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, কিংবা শারীরিক আঘাত বা রক্তপাতের কারণে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কোনো বিকল্প না থাকে, তবে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বিনা কারণে গোলরক্ষকদের এই সময়ক্ষেপণের কৌশল সাধারণ দর্শক, ফুটবল বিশ্লেষক ও বিপক্ষ দলের কোচদের কাছে চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে ফুটবলের মাঠে সেই হতাশার অবসান ঘটবে এবং খেলার আসল রোমাঞ্চ বজায় থাকবে বলেই ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।