ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: গোল ডটকম
চরম নাটকীয়তা, পেনাল্টি, ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ এবং সবশেষে এক তরুণের বীরত্ব—বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি রূপকথার কোনো চিত্রনাট্যের চেয়ে কম ছিল না। রবার্তো মার্টিনেজের পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অতিরিক্ত সময়ে গোনসালো রামোসের করা গোলটিই ব্যবধান গড়ে দেয় ম্যাচের।
ম্যাচের শুরুটা ছিল বেশ সতর্ক। দুই দলই রক্ষণভাগে মনোযোগ দেওয়ায় প্রথমার্ধ ছিল অনেকটা ছন্দহীন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কয়েকটি অর্ধ-সুযোগ তৈরি করলেও তা গোলের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে যায়। ক্রোয়েশিয়া আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং দিওগো কস্তার বীরত্বে বেশ কয়েকবার নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় পর্তুগাল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; অভিজ্ঞ ইভান পেরিসিচের জোরালো শটে ক্রোয়েশিয়া ১-০ গোলে লিড নেয়।
পিছিয়ে পড়ে যখন পর্তুগাল কোণঠাসা, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। বক্সে রেনাতো ভেইগা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে গোল করে রোনালদো ম্যাচে সমতা ফেরান। গোলটি পর্তুগিজদের মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আসে যখন রোনালদোকে তুলে নিয়ে বদলি হিসেবে নামানো হয় গোনসালো রামোসকে। ঠিক যেন নিয়তির লিখন! রাফায়েল লিও’র একটি নিখুঁত ক্রস ফার পোস্টে চলে আসে, আর সেখান থেকে লাফিয়ে উঠে জোরালো হেডে গোল করেন রামোস। স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
তবে এখানেই নাটকের শেষ নয়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতাসূচক গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল। মারিও পাসালিচের পাস থেকে ইয়োস্কো গার্দিওল গোল করলেও, দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। সেই মুহূর্তেই নিশ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়ার বিদায়।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল এক মিশ্র অনুভূতির। ৪০ বছর বয়সী লুকা মড্রিচ সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলে ফেললেন। ফুটবলের এই জাদুকরের বিদায়টা ছিল বিষণ্ণতায় ঘেরা। যদিও দিনশেষে পর্তুগাল জয়ী, তবে ম্যাচের ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ লড়াই মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচ হাইলাইটস:
ফলাফল: পর্তুগাল ২ - ১ ক্রোয়েশিয়া (অতিরিক্ত সময়)
গোলদাতা: রোনালদো (পেনাল্টি), রামোস (পর্তুগাল); পেরিসিচ (ক্রোয়েশিয়া)
ম্যাচ সেরা: গোনসালো রামোস