ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ডেম্বেলের গোলে লিড নেয় পিএসজি ছবি: বিবিসি স্পোর্টস
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী থাকলো ফুটবল বিশ্ব। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থাকায় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে বায়ার্ন দাপট দেখালেও দিনশেষে শেষ হাসি হেসেছে ফরাসি জায়ান্টরাই।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই স্বাগতিক বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেয় পিএসজি। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় চমৎকার এক আক্রমণে লক্ষ্যভেদ করেন উসমান দেম্বেলে। তার এই গোলটি পিএসজিকে ম্যাচে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানসিকভবে অনেকটা স্বস্তিতে রাখে। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময় বল ছিল বায়ার্নের পায়ে। তারা মোট ৫৭৭টি পাসের মাধ্যমে পিএসজির রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। বিপরীতে পিএসজি পাল্টা আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে খেলছিল।
ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৪ মিনিটে) পেনাল্টি বা ডি-বক্সের ভেতর সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। এই গোলের পর গ্যালারিতে আশার আলো জাগলেও তা ফাইনালের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
দুই দলের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল বায়ার্ন।
আক্রমণ: দুই দলই ১৫টি করে শট নিলেও পিএসজির শটগুলো ছিল বেশি কার্যকর। তাদের ৮টি শট গোলমুখে থাকলেও বায়ার্নের ছিল ৫টি।
পাসিং: বায়ার্নের পাসের নির্ভুলতা ছিল ৮৭ শতাংশ, যেখানে পিএসজির ছিল ৭৯ শতাংশ।
কর্নার: পিএসজি ৮টি কর্নার আদায় করতে পারলেও বায়ার্ন পেয়েছে মাত্র ১টি।
বিদায় বায়ার্ন, উল্লাসে পিএসজি
প্রথম লেগ এবং দ্বিতীয় লেগ মিলিয়ে মোট স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৬। অর্থাৎ, এক গোলের ব্যবধানে বায়ার্নকে পেছনে ফেলে শিরোপার লড়াইয়ে শেষ ধাপে পৌঁছে গেল পিএসজি। নিজেদের ঘরের মাঠে আধিপত্য বিস্তার করেও বিদায় নিতে হলো জার্মান জায়ান্টদের। অন্যদিকে, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং শুরুতে পাওয়া গোলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে উল্লাসে মাতে প্যারিসের ক্লাবটি।