পালমেইরাসের বিপক্ষে মাঠে নামেননি নেইমার ছবি: গেটি ইমেজ স্পোর্ট
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটিই নাম—নেইমার জুনিয়র। তবে এবার কোনো গোল বা স্কিলের জন্য নয়, বরং মাঠের ঘাস নিয়ে তার ‘আপসহীন’ অবস্থানের কারণে শিরোনামে এসেছেন এই তারকা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পালমেইরাসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামেননি নেইমার। কারণ? মাঠের কৃত্রিম ঘাস বা সিন্থেটিক টার্ফ!
শনিবার পালমেইরাস ও সান্তোসের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ‘ক্লাসিকো’ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। কিন্তু পুরো ম্যাচে সবচেয়ে বড় অভাব ছিল সান্তোসের সেরা তারকা নেইমারের। গত সপ্তাহের মাঝামাঝিতে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেললেও, পালমেইরাসের মাঠ ‘আলিয়াঞ্জ পারকু’-তে নামতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। কৃত্রিম ঘাসে খেললে ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে—দীর্ঘদিন ধরে নেইমার এই তত্ত্বে অনড়। নিজের এই কঠোর নীতির কারণেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে দর্শক হয়ে থাকতে হলো তাকে।
সিন্থেটিক টার্ফের বিরুদ্ধে নেইমার সবসময়ই সরব। এর আগে তিনি এই ধরনের মাঠকে ‘অ্যাবসার্ড’ বা অদ্ভুত বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন: "আলিয়াঞ্জে (পালমেইরাসের মাঠ) খেলা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব। আমার ইনজুরি থাকুক বা না থাকুক, কৃত্রিম ঘাসে খেলাটা একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে।"
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বর্তমান গতিধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, "ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মান যেখানে পৌঁছেছে, সেখানে কৃত্রিম ঘাস নিয়ে কথা বলাটাই লজ্জাজনক। আমাদের ফুটবলের যে ঐতিহ্য এবং গুরুত্ব, তাতে এটি কোনো বিকল্প হতেই পারে না।"
লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ: আনচেলত্তির নজর কি নেইমারে?
নেইমার বর্তমানে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল), কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের কাছে হারের পর থেকে তাকে আর হলুদ জার্সিতে দেখা যায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অবশ্য হাল ছাড়ছেন না। নিজের স্বপ্ন নিয়ে তিনি বলেন, "অবশ্যই, প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে থাকা। আমি আশা করি আমি সেখানে থাকব এবং দেশের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব।"
তবে ফিটনেস এবং মাঠের ঘাস নিয়ে এই ‘সিলেক্টিভ’ হওয়ার প্রবণতা কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।