ক্রীড়া ডেস্ক
সাকিব আল হাসান ছবি: সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বাংলাদেশে ফেরার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তবে এই প্রত্যাবর্তনের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং আইনি জটিলতা। মুম্বাইয়ে একটি বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, যথাযথ সুরক্ষা ও হয়রানি না করার নিশ্চয়তা পেলেই তিনি দ্রুত দেশে ফিরবেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি আইনের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন না। তবে ফেরার আগে তার কিছু নূন্যতম প্রত্যাশা রয়েছে: মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক হয়রানি করা যাবে না। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা। তার জন্য কোনো বিশেষ পুলিশি মহড়া বা রাস্তা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তবে সাধারণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান তিনি।
সাকিব বলেন, "আমাকে যদি আজ নিশ্চয়তা দেওয়া হয় যে আমি হয়রানির শিকার হব না, তবে আমি পরশুই দেশের বিমানে উঠব।"
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি সপরিবারে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো হলো:
১. আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলায় হুকুমদাতার আসামি (২৮ নম্বর অভিযুক্ত)।
২. শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও চেকে জালিয়াতির অভিযোগ।
এসব মামলা প্রসঙ্গে সাকিবের দাবি, এগুলোর কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি নেই। তার মতে, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা মাথায় নিয়েও অনেকে দেশে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তাই তার ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়া অসম্ভব নয়।
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সাকিবকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান সফরে। এরপর থেকে গত দেড় বছর ধরে দলে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চললেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সাকিব আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরে আদালতে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করবেন এবং আবারও লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নামবেন।