❒ টি-২০ সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ
ধ্রুব ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাজেভাবে হারার পর প্রশ্ন উঠছে ভারতের একাদশ নির্বাচন নিয়ে। ব্যাটে-বলে এমনভাবে পর্যদুস্ত হয়েছে ভারত, শুধু কোনো একটি দিকে বা একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে আলোচনার খুব বেশি ভিত্তি নেই। তবু ভারতের একাদশের একটি জায়গা নিয়ে চলছে আলোচনা। আকসার প্যাটেলের জায়গায় ওয়াশিংটন সুন্দারকে কেন নেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় ক্রিকেটে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এটি নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরেছে ভারত। বিশ্বকাপের ১০ আসরে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয়। ব্যাটে-বলে কোনো দিক থেকেই এ দিন গত বিশ্বকাপের রানার্স আপ দলের কাছে পাত্তা পায়নি চ্যাম্পিয়নরা।
ভারতের একাদশে আকসারকে না রাখা নিয়ে টসের সময়ই অধিনায়ক সুরিয়াকুমার বলেছিলেন, ‘ট্যাকটিকাল সিদ্ধান্ত।”
ম্যাচ হারার পর সংবাদ সম্মেলনে সেই কৌশলগত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে।
“আমাদের বিশ্লেষণে মনে হয়েছে, আমাদের সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারে কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিকেলটন ও ডেভিড মিলার। দুজনের মধ্যে (আকসার ও ওয়াশিংটন) কেবল একজনকেই দলে নেওয়া যেত এবং আমরা বেছে নিয়েছিল এমন একজনকে, যে পাওয়ার প্লেতে বোলিং করতে পারে। আকসারও পাওয়ার প্লেতে বোলিং করতে পারে মাঝেমধ্যে অবশ্যই। তবে আমাদের মনে হয়েছে, ওয়াশিংটন সেখানে আমাদের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।”
“এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্ব অংশ ছিল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওয়াশিংটন পাওয়ার প্লেতে কতটা ভালো বল করেছে। আমাদের ভাবনা ছিল তিন মূল বোলারের সঙ্গে ওয়াশিংটনরে রাখা, অন্য দুজন মিলে পঞ্চম বোলারের কাজ করবে। পাওয়ার প্লে জেতাটা খুব জরুরি ছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, শুরুর দিকে দুটি ওভার করবে ওয়াশিংটন।”
সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান একজন কমিয়ে আকসার ও ওয়াশিংটন দুজনকেই খেলানোর সুযোগ ছিল। বোলিংয়ের পাশাপাশি দুজনেরই ব্যাটের হাত ভালো। তবে টেন ডেসকাটে বললেন, বাড়তি ব্যাটসম্যানও জরুরি মনে করেছেন তারা।
“মনের কোণে এরকম ভাবনা আসতে পারে যে, একজন ব্যাটারকে বাদ দিয়ে বোলার আরেকজন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়তো সঠিক হতো। তবে আমরা যখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম, তখন রিঙ্কুকেও আমাদের প্রয়োজন মনে হয়েছে, কার্যত অষ্টম ব্যাটিং অপশন হিসেবে। এটিই ছিল একাদশের পেছনে ভাবনা।”
গত কয়েক বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাফল্যে বড় অবদান আকসারের। গত বিশ্বকাপের শিরোপা জয়েও তার ছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তবে ভারতের সহকারী কোচ আবারও বললেন, আকসারের সামর্থ্য নিয়ে তাদের প্রশ্ন নেই। তারা কেবল কৌশলগত সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।
“আকসারকে এখানে খাটো করা হয়নি অবশ্যই। দলের জন্য তার নেতৃত্বগুণ ও গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। তবে এই চ্যালেঞ্জরই প্রতি সপ্তাহে মুখোমুখি হতে হয় আমাদের, ১৫ জন থেকে ১১ জনকে বেছে নেওয়া। সুপার এইটের পরের দুই ম্যাচে যাতে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।”
“আজকে যেহেতু আমরা ভেবেছি ওদের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের থেকেই বেশি হুমকি আসবে এবং বাড়তি একজন ব্যাটসম্যানও চেয়েছি, সরাসরি তাই ওয়াশিংটন ও আকসারের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে হতো এবং আমরা ওয়াশিংটনকে বেছে নিয়েছি।”
মজার ব্যাপার হলো, পাওয়ার প্লের জন্য দলে নেওয়া হলেও সেখানে ওয়াশিংটনের অফ স্পিন কাজে লাগানো হয়নি। দুই পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ ও আর্শদিপ সিং মিলে ৪ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট নেওয়ার পর অবশ্য পাওয়ার প্লের বোলিং পরিকল্পনায় বদল আসতেই পারে।
তবে শুধু ডানহাতি-বাঁহাতি ভাবনায় আকসারের মতো একজনকে বাইরে রাখাটা মানতে পারছেন না রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের সাবেক অফ স্পিনার বললেন, ম্যাচ-আপের চেয়ে এখানে বেশি জরুরি স্থিতিশীল দল।
“আমি একমত যে, আইপিএলে ম্যাচ-আপ ঠিক আছে। ১৪ ম্যাচের টুর্নামেন্ট, সেখানে দলে পরিবর্তন আসতেই পারে। কিন্তু এই ধরনের আইসিসি টুর্নামেন্টে দল যত থিতু থাকে, ততই ভালো।”
“আমি শতভাগ একমত যে, বাঁহাতিদের বিপক্ষে ওয়াশিংটন সুন্দারকে প্রয়োজন হতে পারে। বুঝলাম তাকে খেলানো জরুরি। কিন্তু আকসার প্যাটেল তো টি-টোয়েন্টিতে দলের এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার)। সে কী করেছে, ভুলে যাওয়া যাবে না।”
গত বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আকসারের পারফরম্যান্স মনে করিয়ে দিলেন অশ্বিন।
“গত বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আকসার প্যাটেল এরকম চাপের মধ্যেই ক্রিজে গিয়েছিল। ভিরাট কোহলির সঙ্গে জুটি গড়েছিল সে এবং ভারত ১৭০ রান পেরিয়ে গিয়েছিল। অবশ্যই কোহলির অভিজ্ঞতা সেখানে ভূমিকা রেখেছিল, তবে আকসারও পিছিয়ে ছিল না। ভারত যদি আজকে কিছু উইকেট হাতে রাখতে পারত এবং মিডল অর্ডারে একটু থিতু হতে পারত, তাহলে রান তাড়া করতে পারত।”
বারবাডোজে সেই ফাইনালে ৩৪ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নেমে ৩৪ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আকসার। কোহলির সঙ্গে তার জুটি হয়েছিল ৭২ রানের। পরে বল হাতেও উইকেট নিয়েছিলেন ১টি।