ধ্রুব ডেস্ক
রাশিদ খান। ছবি: সংগৃহীত
আহমেদাবাদের এই পরাজয়ের সঙ্গে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই হারের তুলনা করছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডাবল সুপার ওভারে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে আফগানিস্তানের। আহমেদাবাদের এই পরাজয়ের সঙ্গে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের তুলনা করছেন রাশিদ খান। আফগানিস্তান অধিনায়কের মতে, এসব ম্যাচ মন থেকে মুছে ফেলে প্রায় অসম্ভব। তবে হারের জন্য দলের কারো দিকেই আঙুল তুলছেন না তিনি।
আসরে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সোমবার দিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। আগের দিন হাসিমুখে রাশিদ বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর রাতে পছন্দের খাবার খেয়ে সান্ত্বনা খোঁজার পাশাপাশি পারফরম্যান্সের জন্য গর্বিত হওয়ার কথা নিজেদের মনে করিয়ে দেন তারা।
“আমরা আহমেদাবাদে ছিলাম এবং ম্যানেজারকে বলেছিলাম খাবার অর্ডার করতে। পেশাওয়ারি খাবার: ডাল বুখারা, ডাল মাখানি, এসব তাকে অর্ডার করতে বলেছিলাম এবং কিছু তান্দুরি চিকেন আনতে বলেছিলাম, যাতে আমরা হতাশা কমাতে পারি।”
গত বুধবারের ওই ম্যাচে ২০ ওভারে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে দুই বল বাকি থাকতে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ১৮৭ রানেই।
প্রথম সুপার ওভারে ১৭ রান তুলে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় আফগানরা। শেষ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন পড়ে ৭ রানের। ফাজালহাক ফারুকিকে স্ট্রিস্টান স্টাবসের ছক্কায় ‘টাই’ করে ফেলে প্রোটিয়ারা।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ২৩ রান। প্রথম দুই বলে কোনো রান করতে না পারার পর, টানা তিনটি ছক্কা মেরে লড়াই জমিয়ে তোলেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ। শেষ বলে চার মারলে ‘টাই’ হতো আবার, কিন্তু আউট হয়ে যান তিনি। ৪ রানে জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
হারের জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায় দিতে চান না রাশিদ।
“কারো বলা উচিত নয় যে, সে এটা করেছে বা সে ওটা করেছে, কারণ এসব বিষয় দলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেউ হারেনি, আমাদের দল হেরেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সুপার ওভারে যাওয়ার জন্য আমরা কখনও কোনো খেলোয়াড়কে দায় দিতে পারি না। আমি সবসময় সবাইকে বলি যে, অধিনায়ক হিসেবে আমি এসব কিছু শুনতে চাই না। যখন খেলোয়াড়দের দোষ দেবেন, তখন খেলার চেয়ে এটিই আমাকে বেশি হতাশ করে। আমরা সবাই চেষ্টা করেছি।”
এর মানে এই নয় যে, রাশিদ পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছেন। তিনি ফিরে তাকালেন ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচেও।
“সত্যি বলতে, এটি (ভুলে যাওয়া) খুব কঠিন। যে ম্যাচ কয়েকবার আমাদের মুঠোয় ছিল, সেটা হাত থেকে ফসকে যাওয়া ও হেরে যাওয়া খুব কঠিন এবং হতাশ করে। এসব ভোলা যায় না। যেমন, ২০২৩ সালে ওয়াংখেড়েতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা যে ম্যাচ খেলেছিলাম, তা কখনোই মন থেকে মুছে যায়নি, যতক্ষণ না আমরা ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে জিতলাম। তারপর ধীরে ধীরে তা মন থেকে দূরে সরে যায়।”
২০২৩ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ২৯১ রানের পুঁজি গড়ার পর, ৯১ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেট নিয়ে সেমি-ফাইনালের পথে ছিল আফগানিস্তান। কিন্তু গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অতিমানবীয় এক ডাবল সেঞ্চুরিতে তাদের মুঠো থেকে জয় বের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম দুই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের চার নম্বরে আছে আফগানিস্তান। তাদের নিচে কানাডাও পয়েন্ট পায়নি। ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে আরব আমিরাত। ৪ পয়েন্ট নিয়ে নিউ জিল্যান্ড দুইয়ে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষে আছে। এই দুই দল একটি করে ম্যাচ বেশি খেলেছে।
শীর্ষ দুই দল পাবে সুপার এইটের টিকেট।