Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পাবনায় মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় আগুন দিলো স্থানীয়রা

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
পাবনায় মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় আগুন দিলো স্থানীয়রা

মাদ্রাসায় স্থানীয় জনগণের অগ্নিসংযোগ ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে একটি আবাসিক মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীকে (নাজেরা বিভাগ) গভীর রাতে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ভবন ও ওই শিক্ষকের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় ‘পদ্মা হাসপাতাল’ সংলগ্ন এক নুরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

​আটককৃত অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আবু ইউসুফ। তিনি পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দড়িভাউডাঙ্গা এলাকার ওই আবাসিক মাদ্রাসাটি পরিচালনা এবং শিক্ষকতা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণেই স্ত্রীসহ বসবাস করতেন তিনি। তবে ঘটনার রাতে তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় তিনি মাদ্রাসায় একা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে নাজেরা বিভাগের এক শিশুশিক্ষার্থী কক্ষ থেকে বাইরে বের হলে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ জোরপূর্বক তাকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে শিশুটি কোনোক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। মুহূর্তের মধ্যেই এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

​খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে আটক করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় মাদ্রাসায় থাকা অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত তাদের অভিভাবকদের ডেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়। তবে শিক্ষককে পুলিশে দেওয়ার পরপরই উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্তের বসতবাড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয় ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান।

​পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পেলেই আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​ঘটনার পর পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়—ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)