কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশের পৃথক অভিযানে ৪০ বোতল উইন সেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় যুবলীগের দুই স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাফদারপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন খেলার মাঠের পাশ থেকে পরিত্যক্ত ব্যাগে এসব সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিশেষ অভিযান চালিয়ে যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাফদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কাজী আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাফদারপুর রেলস্টেশনের পাশের খেলার মাঠের উত্তর দিকে রেললাইনের পাশে একটি সাদা ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ব্যাগটি খুলে ১০০ মিলিলিটারের ৪০ বোতল উইন সেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। বোতলগুলোর গায়ে ‘Codeine Phosphate & Triprolidine Hydrochloride’ লেখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সাফদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরি নম্বর ৩৫৫, তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এর মাধ্যমে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা সিরাপ থানা হেফাজতে রয়েছে। তবে ব্যাগটির মালিক কে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটকের তথ্যও পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন দোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলহক (৪০) এবং এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কামাল হোসেন (৩৫)। জুলহক উপজেলার সুয়াদী গ্রামের মৃত আরফান মন্ডলের ছেলে। কামাল হোসেন শিশারকুন্ডু গ্রামের আ. হালিম মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর কোটচাঁদপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশোধিত বিধানের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১৬, জিআর নম্বর ১১৮/২৬। মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক যাচাইয়ে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড (পিসিপিআর) পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।