Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ভবদহে ভয়াবহ  মানবিক বিপর্যয়, পানিসম্পদ মন্ত্রীকে স্মারকলিপি সংগ্রাম কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুলাই,২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই,২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ভবদহে ভয়াবহ  মানবিক বিপর্যয়, পানিসম্পদ মন্ত্রীকে স্মারকলিপি সংগ্রাম কমিটির

জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (উপদেষ্টা) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি’। ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোর ও খুলনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ভবদহ বিলে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৪ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (উপদেষ্টা) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি’।

আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

স্মারকলিপিতে জানানো হয়, যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর এবং খুলনা জেলার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রামের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই পানির উচ্চতা বাড়ছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে গৃহপালিত গবাদিপশু নিয়ে মানুষ রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সৃষ্ট এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চরম অবহেলা ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেছে সংগ্রাম কমিটি।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সরেজমিন পরিদর্শন করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এগুলো হলো— আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত করে সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদীসমূহ খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু করা।

তবে স্মারকলিপিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চরম দীর্ঘসূত্রিতা জনগণের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভয়নগর উপজেলায় আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়ার পর দুই বছর পার হয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে কাজ আটকে রয়েছে। অথচ এই খাল দিয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশিত হতে পারতো।

এছাড়া সেনাবাহিনী পরিচালনাধীন ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের ৮১.৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন কাজ এখনও শেষ হয়নি। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে নদী খননের সময় খর্ণিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গভাবে অপসারণ না করায় এবং পলিমুক্ত না করায় খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার নদী পুনরায় পলি ভরাট হয়ে গেছে। নদী খননের সাথে সাথে টিআরএম যুগপৎভাবে চালু না করায় নদী খননের ১৪০ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-এর সামগ্রিক প্রস্তাবনার ওপর গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, এলাকার সংসদ সদস্যবৃন্দ, অববাহিকার আন্দোলনকারী সংগঠন ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এক জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৯৭ শতাংশ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম চালুর সুপারিশের সাথে সবাই একমত পোষণ করলেও তা বাস্তবায়নে অনহেতু বিলম্ব করা হচ্ছে।

২০০৬ সালের প্রেক্ষাপট টেনে স্মারকলিপিতে বলা হয়, তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী জননেতা তরিকুল ইসলাম ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বিল খুকশিয়ায় টিআরএম চালু করেছিলেন, যার ফলে ২০১২ সাল পর্যন্ত এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১২ সালে বিল কাপালিয়ায় টিআরএম চালু করতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার স্বপ্ন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়ে টিআরএম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করা হয়, যা আজকের দুর্যোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

পরিস্থিতি নিরসনে সংগ্রাম কমিটির ৪ দফা দাবি হলো: ১. জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। ২. অবিলম্বে খর্ণিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশের আঁড় বাঁধসহ সকল আঁড় বাঁধ অপসারণ করা এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পলি দ্রুত অপসারণ করা। ৩. আইডব্লিউএম (IWM) কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী নদী খননের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম চালু করা। ৪. পানিবন্দী মানুষের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, উপদেষ্টা তাসলিম-উর-রহমান, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক, পলাশ বিশ্বাস, রাজু আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, "ইতিমধ্যে দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত পানি অপসারণে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।"

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)