বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
সাধারণ টাস্ক গুলো পার্ফম করতেও এআই ডাটা সেন্টার গুলো কনজিউম করছে বিপুল পরিমাণ পানি ছবি: প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত
প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করে ১০০ শব্দের ছোট্ট একটি ইমেইল ড্রাফট করতে পরিবেশের কী পরিমাণ মূল্য চোকাতে হচ্ছে সে বিষয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই সামান্য কাজের পেছনেই খরচ হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৫১৯ মিলিলিটার বা আধা লিটারের এক বোতল পানি!
চমকে যাওয়ার মতো এই তথ্যটি উঠে এসেছে বিখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইড-এর এক যৌথ গবেষণায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, ওপেনএআই-এর সর্বাধুনিক 'জিপিটি-৪' মডেলটি সার্বক্ষণিক সচল রাখতে এবং এর শক্তিশালী ডেটা সেন্টারগুলোকে অতিরিক্ত গরম হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ও শীতল রাখতেই মূলত এই বিপুল পরিমাণ পানি ব্যয় হচ্ছে।
গবেষণাপত্রে একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দশজন চাকরিজীবীর মধ্যে মাত্র একজনও যদি সপ্তাহে অন্তত একবার চ্যাটজিপিটির সাহায্যে ইমেইল লেখেন, তবে বছর শেষে শুধুমাত্র এই খাতেই প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি হারিয়ে যাবে। বিশাল এই পানির পরিমাণ দিয়ে আমেরিকার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের গোটা দেড় দিনের পানির চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই আগ্রাসন কেবল পানিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও এর ক্ষুধা নেহাত কম নয়। ১০০ শব্দের একটি সাধারণ ইমেইল তৈরি করতে চ্যাটজিপিটি প্রায় ০.১৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ পুড়িয়ে থাকে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে অনায়াসেই ১৪টি এলইডি বাল্ব টানা এক ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখা যায়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ পরিস্থিতিতে খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে এআই প্রযুক্তির এমন অপরিকল্পিত ও ক্রমবর্ধমান ব্যবহার স্থানীয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি যে একেবারেই নতুন, তা কিন্তু নয়। গবেষকরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র পূর্ববর্তী 'জিপিটি-৩' মডেলটিকে প্রাথমিক ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময়েই প্রায় ৭ লাখ লিটার পানি খরচ করতে হয়েছিল। প্রযুক্তিগত সুবিধার আড়ালে আধুনিক এআইয়ের এই ভয়ংকর পরিবেশগত ঝুঁকির দিকটি তাই এখন আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিবেশ রক্ষায় প্রযুক্তির এই নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে এখনই গভীরভাবে ভাবার এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।