ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জামায়াতের দুঃখপ্রকাশ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মারধরের শিকার হয়েছেন এক সংবাদকর্মী। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতা–কর্মী তার ওপর হামলা চালান। জামায়াতের এক নেতা বলেছেন, ‘ভুল–বোঝাবুঝি’ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে, তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে থেকে আজ মঙ্গলবার দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে মিছিলের কর্মসূচির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হন। আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতসহ বিভিন্ন দল কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে সমাবেশ হয়। তখনই হামলার শিকার হন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিকও আক্রান্ত হন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সংবাদকর্মী জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান থেকে জামায়াতের মিছিল বের হয়। মিছিলটি সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। মিছিলের পরে সমাবেশ যখন চলছিল, তখন বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বলেন সাংবাদিকেরা। এতে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা চটে যান। তখন মাহফুজুর রহমান শিশির নামের এক সংবাদকর্মীকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এ সময় আরও চার-পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন।
হামলার পর মাহফুজুর রহমান শিশিরকে অন্য সাংবাদিকেরা উদ্ধার করে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়।
মাহফুজুর রহমান শিশির দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘মিছিল শেষ করে জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। হাজারীবাগ থানার আমির যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন টিভির ক্যামেরাম্যানরা তাঁদের বলছিলেন, সবাই বক্তব্য না দিয়ে মূল বক্তা যেন বক্তব্য দেন। সবাই বক্তব্য দিলে আমরা সেটি নিউজে ধরাতে পারব না। তখন হাজারীবাগ থানার আমির বলেন, “আমরা সবাই বক্তব্য দিব, আপনারা থাকলে থাকেন, না থাকলে নাই। আপনাদের দরকার নাই।”’
সে কথার প্রতিক্রিয়া জানানোয় তার ওপর হামলা হয় বলে জানান মাহফুজুর রহমান শিশির। তিনি বলেন, ‘আমি তখন প্রতিবাদ করে বলি, আপনারা এভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। আমরা তো সাংবাদিক, আপনাদের কর্মী নই। এরপর কয়েকজন এসে আমার আইডি কার্ড চেক করে। আমি আইডি কার্ড পকেট থেকে বের করার আগেই স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে মারধর শুরু করে। এরপর আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দ্বিতীয় দফায় আমার ওপর হামলা করা হয়।’
এই সাংবাদিক জানান, এ ঘটনার পর জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ও সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন তার খোজ নিয়েছেন এবং এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের সহিংসতা বা চড়াও হওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জানান, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি বা বহিরাগতদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাউকে জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারা জড়িত এবং কীভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দলীয় কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আহত দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে বিবৃতিতে আশ্বস্ত করা হয়েছে।