নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে যশোর জেলা পুলিশ। রোববার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের একাধিক টিমও মাঠে সক্রিয় ছিল। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি, চালকের বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট, পালবাড়ি, ধর্মতলা, নিউমার্কেট ও মনিহার চত্বরে একযোগে এ যানবাহন তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে চাঁচড়া এলাকা থেকে বার্মিজ চাকুসহ রবিন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি ধোপাখোলা গ্রামের তাইজুল মোড়লের ছেলে। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। এছাড়া মনিহার এলাকা থেকে আটক দুই যুবকের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে; তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। পাশাপাশি শহরের নিউমার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথচারী ও যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
যশোর ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান জানান, তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাজিবুল ইসলাম জানান, জুন মাসজুড়ে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে রোববার বিকেল থেকে এ বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।