শহিদুল ইসলাম,বাঘারপাড়া প্রতিনিধি
চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গণধোলাই ছবি: বাঘারপাড়া প্রতিনিধি
যশোরের বাঘারপাড়ায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা আন্দোলন এখন গণপ্রতিরোধে রূপ নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামের সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
“মাদককে না বলুন, নিজেকে সুস্থ রাখুন” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার দোহাকুলা, বাউলিয়া, মামুদালীপুর, বালিয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার হয়েছে। স্থানীয়রা দলবদ্ধভাবে মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে নজরদারি চালাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
গত শনিবার বিকেল ৩টায় দোহাকুলার বিশ্বাসবাড়ী মোড়ে দোহাকুলা সামাজিক অপরাধ ও মাদকবিরোধী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সামাজিক অপরাধ ও মাদক নির্মূল বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধলগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও দোহাকুলা বিশ্বাসপাড়ার কৃতী সন্তান সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাস্টার গোলাম দস্তগীর।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সমাজসেবক বাবর আলী বিশ্বাস, মাস্টার সেলিম রেজা, আনোয়ার হোসেন, জয়নাল আবেদীন, সৈয়াব আলী, হুমায়ুন কবির, বাহারুল ইসলাম, জামান বিশ্বাস সংগ্রাম, লাভলুর রহমান, বাবলুর রহমান, ইউপি সদস্য ফিরোজ হাসান ভুট্টো, ছাত্রদল নেতা হৃদয় তারেক, তুষার আল মামুন, তাসকিন তানহা নাঈম, বাহারুল চাকলাদার, মনির উদ্দিনসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে এলাকাবাসী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শওকত ঢালী, রিপন ঢালী ও হারুন অর রশিদকে আটক করে গণধোলাই দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে তাদের এই সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনসচেতনতা ও তথ্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা উচিত।