Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

অবশেষে সংস্কার হচ্ছে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর

বিডিনিউজ বিডিনিউজ
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে,২০২৬, ০৯:৪৭ এ এম
অবশেষে সংস্কার হচ্ছে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর

চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত। এখানেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে তিনি নিহত হন। প্রায় দুই দশক পর জাদুঘরটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শতবর্ষী ভবনটির সংস্কার কাজ শেষ হলে জাদুঘরটিতে থাকা স্মারকগুলো আবার সেখানে সংরক্ষণ করা হবে।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত চট্টগ্রামের এই পুরাতন সার্কিট হাউজ ভবনের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জড়িত। পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিও জড়িত। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এখানেই একদল সৈন্যের হাতে নিহত হন তিনি।

চট্টগ্রাম নগরীর মাঝে অবস্থিত জাদুঘরটি প্রায় দুই দশক ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় ছিল।

সবশেষ গত ডিসেম্বরে ভূমিকম্পে জাদুঘরের ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক জায়গায় পলেস্তার খসে পড়ে। তখন থেকে জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

এরপর বর্তমান সরকারের একাধিক মন্ত্রী জাদুঘরটি ঘুরে দেখে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে সংস্কার কাজ শুরু হয়।

সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে শ্রমিকরা কাজ করছেন। টালির ছাদে নতুন রঙ লেগেছে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব  বলেন, এ ভবন ১১৩ বছরের পুরোনো। গত বছরের ভূমিকম্পে এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

“পুরো কাজটি তিন ধাপে হবে। শুরুতে ভবন মেরামত। তারপর সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার। মেরামত কাজ শেষ হতে আরো মাস খানেক সময় লাগবে।”

এরপর অন্যান্য কাজে হাত দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রসিদ্ধ কনজারভেটররা সার্ভে করে একটি প্রস্তাব দেবেন। তারপর প্রকল্পের আওতায় সেটি অনুমোদন হলে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।

“প্রকল্পের আওতায় জাদুঘরে থাকা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি স্মারকগুলো আরো সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এতে করে জাদুঘরের কনটেন্ট ও ডিসপ্লে আরো সমৃদ্ধ হবে।”

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ব্রিটিশ আমলে ১৯১৩ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ইংরেজ গর্ভনরের বাসভবন হিসেবে তখন এটি ব্যবহৃত হত। নাম ছিল ‘লাল সাহেবের কুঠি’। পাকিস্তান আমলে ভবনটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই সার্কিট হাউজ ছিল পাকিস্তানি সৈন্যদের দখলে। ভবনটিকে তারা নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত।

যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় সার্কিট হাউজের সামনের মাঠে।

পরে ভবনটি আবার আলোচনায় আসে ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে সেখানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনার পর।

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান  বলেন, “শতবর্ষী এই ভবন মুক্তিযুদ্ধের সময় টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করত পাকিস্তানি সৈন্যরা। বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশিদের ধরে এনে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হত এখানে। এছাড়া এখানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন।”

মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ভবনটি বহু আগে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া ‘উচিত ছিল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, জাদুঘরে থাকা স্মারকগুলো ঠিকঠাক সংরক্ষণ করা হবে।

১৯৮১ সালের ৩ জুন সরকার ৩ দশমিক ১৭ একর জায়গার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৯৩ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ভবনটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের জন্য তখন ভবনটির দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দেওয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর জিয়ার স্ত্রী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন।

কী আছে জাদুঘরে

বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনা করে। এখানে ৯০২টি স্মারক সংরক্ষিত আছে। ১২টি গ্যালারি নিয়ে ১৯৯৩ সালে এর যাত্রা শুরু হয়।

গ্যালারিগুলোতে জিয়াউর রহমানের প্রথম জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ডায়ারোমা (ত্রিমাত্রিক রেপ্লিকা), মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর কমান্ডারদের ছবি, কালুরঘাট যুদ্ধের ছবি, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র, জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত পোশাক-ব্যাগ ও টুপি, বেশকিছু বিরল ছবি, খাল খনন কর্মসূচির রেপ্লিকা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিদেশ সফরের সময়ে বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের দেওয়া উপহার, জিয়াউর রহমান সার্কিট হাউজে সেই রাতে যে কক্ষে ছিলেন সেটির খাট, টেবিল ও কার্পেট এবং রাঙ্গুনিয়ায় জিয়ানগরে যেখানে তাকে প্রথম দাফন করা হয় সেই কবরের ডায়ারোমাসহ বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে এ জাদুঘরে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)