বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে নির্মিত হয়েছে ১৩০ ফুট উচ্চতার একটি সুউচ্চ পতাকাস্তম্ভ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে নির্মিত হয়েছে ১৩০ ফুট উচ্চতার একটি সুউচ্চ পতাকাস্তম্ভ। সীমান্ত এলাকায় এটি এখন নতুন এক গর্ব, আবেগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। উদ্বোধনের পর এই মাস্তুলে উড়বে দেশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় জাতীয় পতাকা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল ছয়টার দিকে সূর্যাস্তের প্রাক্কালে দক্ষ কারিগরদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দাঁড় করানো হয় এই বিশাল ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে ওঠে। পুরো এলাকা যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। উপস্থিত মানুষের চোখে-মুখে ছিল বিস্ময়, গর্ব আর দেশপ্রেমের আবেগ।
বেনাপোল পৌরসভার উদ্যোগে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পতাকাস্তম্ভের ঠিকাদার ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ইসাহক মিয়া জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। তিনি বলেন, “বেনাপোল জিরোপয়েন্ট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ওপারে ভারতের পেট্রাপোলে দীর্ঘদিন ধরে ১০০ ফুট উঁচু মাস্তুলে তাদের পতাকা উড়ছে। আমাদের পক্ষেও একটি প্রতীকী স্থাপনার প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে দেশের সর্বোচ্চ পতাকাস্তম্ভ ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে, যার উচ্চতা ১১৭ ফুট। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর সেখানে প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অন্যদিকে, বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে ২০১৭ সালে নির্মিত ১০০ ফুট উচ্চতার পতাকাস্তম্ভ দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, নতুন এই ১৩০ ফুট উচ্চতার পতাকাস্তম্ভ উদ্বোধনের পর দিনের আলোয় দূর থেকে আগত দেশি-বিদেশি যাত্রীদের চোখে প্রথমেই পড়বে লাল-সবুজের পতাকা। এটি সীমান্তে বাংলাদেশের আত্মপরিচয়, দেশপ্রেম ও আধুনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে পতাকাস্তম্ভ স্থাপনের কাজের জন্য বেনাপোল উপকেন্দ্রের ১, ৫ ও ৭ নম্বর ফিডারে সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুরোধে শুক্রবার বিকেলে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত ছিল বলে বেনাপোল সাব-জোন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট হিসেবে বেনাপোলের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরবে এই উদ্যোগ—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাদের ভাষায়, “এই পতাকা শুধু কাপড় নয়; এটি আমাদের স্বাধীনতা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। সীমান্তে এমন উচ্চতায় পতাকা উড্ডয়ন যেন বিশ্বকে জানিয়ে দেয়—বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে জানে।”
ধ্রুব/এস.আই