Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মংলায় ১৪ মৃত্যু: বুকে পাথর চাপা দীর্ঘশ্বাসে ঈদ কাটল বেঁচে থাকা দু’ভাইয়ের

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২১ মার্চ,২০২৬, ০৭:২১ পিএম
মংলায় ১৪ মৃত্যু: বুকে পাথর চাপা দীর্ঘশ্বাসে ঈদ কাটল বেঁচে থাকা দু’ভাইয়ের

“ঈদের সকালে মসজিদের নামাজ আদায় করে স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছি। মনটা বড়ই বিষন্ন।”

পুরো দেশ যখন ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া এলাকার সাত্তার লেনে তখন বইছে শোকের মাতম।

এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নয় সদস্যকে হারানো স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবার এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। যে বাড়িতে নববধূকে ঘিরে খুশির জোয়ার থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শোক আর নীরবতা।

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের সঙ্গে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতুর বিয়ে হয়।

১২ মার্চ দুপুরে নববধূ মিতু নিয়ে মোংলায় বাড়ি ফিরছিলেন বরের পরিবারের সদস্যরা।

তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌ-বাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় বর ও কনে এবং মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনের প্রাণ যায়।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে রাজ্জাকের বাড়ির গন্তব্য ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় মোংলার এই বর ও কনের আর বাড়ি ফেরা হয়নি।

ঈদের দিনও রাজ্জাকের বাড়ির পরিবেশ স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরাও এই শোক সইতে পারছেন না। এক সময়ের ব্যস্ত এই বাড়িটিতে এখন ঈদের কোনো আয়োজন নেই, নেই কোনো কোলাহল।

এ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুর রহমান জনি। তার খোঁজ নিতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আশরাফুল বলেন, “আমার পরিবারকে নিয়ে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে ১২ মার্চ সকালে খুলনার কয়রায় যাই। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মেয়ের কয়েকজন আত্মীয় আমাদের সঙ্গে আসতে চাইলে আমি আমার আরেক ছোট ভাই আল আমিন হোসেন গাড়িতে না উঠে ভাড়ার মোটরসাইকেলে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করি।

“পথে দুর্ঘটনায় পড়ে আমার পরিবারের নয়জন মারা যান। আমি ও আমার ভাই ওই গাড়িতে থাকলে আমাদেরও মৃত্যু হতে পারত। আমরা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছি।”

দুর্ঘটনায় বরের পক্ষের নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম।

এ ঘটনায় কনের পক্ষ থেকেও চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম।

নিহতদের মধ্যে আরেকজন হলেন মাইক্রোবাস চালক নাইম। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।

আশরাফুর বলেন, “ছয় মাস আগে আমার নওয়া ভাই (চতুর্থ ভাই) আব্দুল্লাহ সানির বিয়ে দেই। এর মধ্যেই হঠাৎ করে আমাদের সবার ছোট ভাই সাব্বিরের বিয়ে ঠিক হয়। সেই বউকে তুলে আনতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা। আমাদের বাড়িতে এবারের ঈদ আনন্দ হওয়ার কথা ছিল জমকালো।

“বাবা, ছেলে, দুই ভাই, দুই বউ, একমাত্র বোন আর ভাগ্নেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছি। এবারের ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। ঈদের সকালে মসজিদের নামাজ আদায় করে স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছি। মনটা বড়ই বিষন্ন।”

তিনি বলেন, “প্রশাসন দুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে। কমিটির তদন্ত যেন নিরপেক্ষ হয়। এতো বড় একটি দুর্ঘটনা কেন ঘটল, কারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করে যেন প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় সেই দাবি জানাচ্ছি।”

মোংলা পৌর বিএনপির সদস্য নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বন্ধু ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম মোবাইল ফোনে বলেন, “ত্রিশ বছরের বেশি রাজ্জাকের সঙ্গে আমি রাজনীতি করেছি। তিনি আমার কমিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

“তিনি ছিলেন নিরহংকারী, সদালাপি, কর্মীবান্ধব মানুষ। নিজের সাধ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। রোজার মধ্যে ছোট ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলেন। তার বাড়িতে এবারের ঈদ আনন্দ হওয়ার কথা ছিল মহা ধুমধামে। সেই বাড়ি আজ মৃত্যুপুরী।”

তিনি বলেন, “রাজ্জাকের পরিবারের কারও মনে আনন্দ নেই। প্রতিবেশীরাও শোকাহত। এমন মৃত্যু যেন আর না হয়, সড়ক যেন নিরাপদ হয়।

“এই দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক, অপরাধীদের বিচার হোক, সেই দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।”

ধ্রুব/এস.আই

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)