ধ্রুব ডেস্ক
জিও ব্যাগ লুটের দৃশ্য ছবি: সংগৃহীত
জিও ব্যাগ লুট। ব্যাগ কেটে বালু ফেলে ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে নারী পুরুষ শিশুরাও। পদ্মার তীর রক্ষার হাজার হাজারজিও ব্যাগ চুরির এই হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে। সেখানে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য মজুত করা ১৮ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগের মধ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি ব্যাগ লুট করে নিয়েছে স্থানীয়রা। গত চার দিন ধরে চলা এই 'হরিলুটে' নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রশি টানাটানির সুযোগে কয়েকশ কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্পটি এখন হুমকির মুখে।
সরেজমিনে বুধবার রাতে সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মনাই হাওলাদার বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। শত শত মানুষ নদীর পাড়ে রাখা জিও ব্যাগগুলো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে বালু সরিয়ে খালি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মাইকিং করে এবং ব্যানার টাঙিয়েও এই গণলুট থামাতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে লুটেরাদের সাহস ও সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।
২০২৩ সালে প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়িয়া থেকে সখিপুরের উত্তর তারাবুনিয়া পর্যন্ত ৫দশমিক ৮ কিলোমিটার স্থায়ী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
এ কাজের জন্যে মোট সরবরাহকৃত ব্যাগ ১৮ হাজার৩৬৬টি। এর মধ্যে লুট হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি ব্যাগ। ব্যাগের জন্যে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
ভাঙন রোধে এই ব্যাগগুলো নদীতে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাগ উধাও হয়ে যাওয়ায় আগামী বর্ষায় নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও জনপদ বিলীন হওয়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লুটপাটের ঘটনায় দায় নিতে নারাজ দুই পক্ষই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'ইগল রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল জানান, তারা ব্যাগগুলো পাউবোকে চিঠির মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটি এখন রাষ্ট্রের সম্পদ।
অন্যদিকে, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান দাবি করেন, কাজ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মালামাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারের। কাজ শেষ হলে তারা ব্যাগ গুনে বুঝে নেবেন। এই দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের সুযোগেই নির্বিঘ্নে লুটতরাজ চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ। গতকাল এক ইফতার মাহফিলে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিনে তিনি। তিনি বলেন,‘সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে এই বাঁধ নির্মাণ করছে। যারা সরকারি মালপত্র চুরি করছে, তাদের আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দিচ্ছি। অন্যথায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সখিপুর থানার ওসি মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গত চার দিনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।