নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকদের অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ট্রলি ঠেলার বিনিময়ে রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই হাসপাতালে আগত রোগীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার জন্য ট্রলি ঠেলার কাজ করে আসছিলেন। বিনিময়ে তারা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০/২০০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ গ্রহণ করতেন। তবে আজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েত সিদ্ধান্ত দেন যে, রোগীদের ট্রলি ঠেলে স্বজনদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক মফিজুল হক সাগরের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন কর্মী প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা দুটি দাবি জানান, রোগীদের কাছ থেকে টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে অথবা স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের বিনিময়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করতে হবে। অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক নেতা মফিজুল হক সাগর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন ছাড়া রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। রোগীর স্বজনরা খুশি হয়ে যা দেন, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। হয় আমাদের টাকা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক, না হয় আমাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হোক। দুপুর ১২টার দিকে স্বেচ্ছাসেবকরা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে পুনরায় নিজ নিজ কাজে ফিরে যান।
যশোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন রোগীদের ট্রলি ঠেলে স্বজনদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না এ সিন্ধান্ত নিয়েছি। তবে যে পরিমান সাপোটিং স্টাফ থাকার কথা তা নেই। আমরা এ সমস্যার সমাধানের চেষ্ঠা করছি।