নিজস্ব প্রতিবেদক
চালডালের কর্মীরা বিক্ষোভ করে, এসময় শাহনি নামে একজন আহত হন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত অনলাইন গ্রোসারি প্রতিষ্ঠান ‘চালডাল ডটকম’-এর সহস্রাধিক কর্মী আজ সোমবার বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত তিন মাস ধরে বেতন না পেয়ে এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত উদাসীনতায় বাধ্য হয়েই তারা এই কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেন। কল সেন্টার কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ একপর্যায়ে পার্কে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন মাস তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট আকাশ আকবর জানান, গত চার বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিলেও গত তিন মাস ধরে তাদের পাওনা পরিশোধে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার সকালে কর্মীরা বেতন বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং অফিসিয়াল মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। মূলত এই অপমান ও বঞ্চনাই সাধারণ কর্মীদের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভে নামতে বাধ্য করে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় অবস্থিত কল সেন্টারে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইরে থেকে সহকর্মীরা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে কর্মীদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে। দীর্ঘদিনের বেতনহীন অবস্থায় এমন বৈষম্যমূলক আচরণে কর্মীরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ফটকে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জিএম দূর্লভ বলেন, বেতন না দিয়ে আমাদের হেনস্তা করা হয়েছে। আমরা কাজ করেছি, আমাদের ন্যায্য পাওনা চাইলে আমাদেরই বের করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন কর্মী ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ফটকে ভাঙচুর করা হয়।এ সময় মাথায় ইট পগে শাহিন নামে এক আন্দোলকারী আহত হন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
চালডাল ডটকমের যশোর ইনচার্জ শাহাদত হোসেন মিঠুন স্বীকার করেন, নতুন বিনিয়োগ না আসা এবং আর্থিক সংকটের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তই সহস্রাধিক কর্মীকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজালাল উপস্থিত হয়ে বলেন, আমরা মধ্যস্থতার চেষ্টা করছি। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে এই সহস্রাধিক কর্মীর বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য আমরা চাপ দিচ্ছি।
২০১৯ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। বেতন না পাওয়ায় তাদের শিক্ষাজীবন ও দৈনন্দিন ভরণপোষণ এখন চরম হুমকির মুখে। বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মীরা তাদের দাবিতে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।