নিজস্ব প্রতিবেদক
এআই দিয়ে করা স্কেচ ছবি: প্রতীকী
যশোর: হাতে চকচকে বার্মিজ চাকু, চোখেমুখে হিংস্রতা—যশোর সদরের ওসমানপুর বাজারে এই ছিল রাব্বি হোসেন নামে এক যুবকের প্রাত্যহিক চিত্র। চাকু দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং লোকজনকে হুমকি দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। তার এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় সন্ত্রস্থ ও তটস্থ থাকতো। শেষপর্যন্ত এলাকাবাসীর সাহসিকতায় সেই মরণঘাতী চাকুসহ পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছে এই যুবক।
শুক্রবার রাতে যশোর সদরের ওসমানপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল শিকদার বাদী হয়ে আটক রাব্বির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসমানপুর গ্রামের জনির সাথে পার্শ্ববর্তী কাশিমপুর ইউনিয়নের হারুন অর রশিদের টাকা লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওসমানপুর বাজারে জনি ও হারুনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় স্থানীয়রা বিষয়টি মিমাংসা করে দিলেও উত্তেজনা থামেনি। শুক্রবার রাতে ব্যবসায়ী দুলাল শিকদার বাজারের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন জনি ও রহেলাপুর গ্রামের রাব্বি হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাব্বি তার কাছে থাকা ধারালো বার্মিজ চাকু বের করে দুলাল শিকদারকে প্রাণে মারার হুমকি দিতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে দুলাল শিকদার চিৎকার দিয়ে দৌড় দিলে বাজারের লোকজন তাৎক্ষণিক এগিয়ে আসে। জনতা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে রাব্বি হোসেনকে চাকুসহ ধরে ফেলে। তবে এ সময় তার সহযোগী জনি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাব্বিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাব্বি এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচারের মতো পরিবেশ তৈরি করেছিল। তুচ্ছ ঘটনায় চাকু বের করে ভয় দেখানো ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পলাতক সহযোগীকে আটকের চেষ্টা চলছে।