নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর: মাঠভরা সবুজ ধানের স্বপ্ন ছিল দুচোখে। সেই স্বপ্নকে সজীব রাখতে দুপুরে গিয়েছিলেন নিজের জমিতে পানি দিতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই ধানের জমিই হলো তার শেষ শয্যা। যশোরের সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যখন মাঠের চারদিকে কৃষকদের ব্যস্ততা, ঠিক তখনই দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম ছোট বালিয়াডাঙ্গা পশ্চিম পাড়ার আব্দুল খালেক মোল্লার ছেলে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলাম দুপুরে নিজের জমিতে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের (মোটর) মাধ্যমে পানি দিচ্ছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের ছিঁড়ে থাকা বা লিকেজ হওয়া তারের সংস্পর্শে চলে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই শক্তিশালী বিদ্যুৎ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
মাঠে থাকা অন্য কৃষকরা তাকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে আসেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই সম্ভবত তার মৃত্যু হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের করিডোরে শোকাচ্ছন্ন স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একজন কর্মঠ ও নিরপরাধ মানুষের এমন অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিহতের পরিবার।
যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কোতোয়ালী থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ধানের জমিতে ফসল ফলানোর স্বপ্ন আজ বিলীন হয়ে গেল এক টুকরো অসতর্ক বৈদ্যুতিক তারের মরণফাঁদে। এই মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল গ্রামীণ কৃষিতে সেচযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার অপরিহার্যতাকে।