নিজস্ব প্রতিবেদক
আটকম দুই আসামী জেসমিন বেগম ও মোস্তফা ছবি: ধ্রুব নিউজ
৩০ অক্টোবর মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা এলাকার জেসমিন বেগম ও মাজেদা খাতুন। তারা প্রতিবেশী। মাঠে পৌঁছানোর পর তাদের দেখা হয় একই এলাকার যুবক মোস্তফা কামালের সাথে। মাঠে হঠাৎ মোস্তফা ও জেসমিনকে আশপাশে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন মাজেদা। কিছুক্ষণ পর মাজেদা দেখতে পান, জেসমিন ও মোস্তফা আপত্তিকর অবস্থায় মেলামেশা করছেন। আবেগের বশে মাজেদা শাসনের সুরে চিৎকার দিয়ে জেসমিনের নাম উচ্চারণ করেন। এইটুকুই ছিল তাদের অপরাধ। অবৈধ সম্পর্ক লুকাতে মাজেদা খুতুন ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী আলেক নুর ইসলাম কৌশলে মাঠে ডেকে নিয়ে কাচি দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মনিরামপুর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোস্তফা কামালের সাথে জেসমিনের অবৈধ পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। মাজেদা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় এবং সেই গোপন সম্পর্ক জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মাজেদা ও তার স্বামী নূর ইসলামকে মাঠের নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করে ফেলে রেখে যান জেসমিন ও মোস্তফা। তাদের দুইজনের বাড়ি মাগুরখালী সর্দারপাড়ায়।
পুলিশ জানান, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর নিহতের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
মামলার পর কেশবপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত জেসমিন বেগমকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত তথ্য ও তদন্তের সূত্রে অপর আসামি মোস্তফা কামালকেও আইনের আওতায় আনা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানিয়েছেন, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় তারা অবৈধমেলামেলার উদ্দেশ্যে মাঠে যায়। মাজেদা বেগম দেখে ফেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর থানার ব্রাক্ষণডাঙ্গা গ্রামের জনৈক প্রভাত বিশ্বাসের ধানি জমিতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থান থেকে অজ্ঞাতনামা দুই জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ পিবিআই এর মাধ্যমে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে।
চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন ছাড়াও এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।