Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও চুক্তি করতে ভাড়াটিয়াদের উপর চাপ টিএসআই রফিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর,২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও চুক্তি করতে ভাড়াটিয়াদের উপর চাপ টিএসআই রফিকের

ভাড়াটিয়ারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যেয়ে অভিযোগ দেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যশোর শহরের আরএন রোডের একটি মার্কেটের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় ও নতুন করে চুক্তিপত্র করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা টিএসআই রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে। তার প্রতিনিধি পরিচয়ে মুন্না নামে এক ব্যবসায়ী দুই দফায় ভাড়াটিয়াদের ডেকে চুক্তিপত্র সম্পাদনের জন্য চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মার্কেটের ১৮ জন ব্যবসায়ী যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ জানান।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পুলিশ সুপার তাদের আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে ভাড়া না দিতে এবং নতুন কোনো চুক্তিপত্র না করতে বলেছেন। কেউ এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি বা সমস্যা করলে পুলিশকে জানাতেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের আরএন রোডে হোমিওপ্যাথিক কলেজের পশ্চিম পাশে প্রায় সাড়ে ১৩ শতক জমির ওপর মার্কেটটি অবস্থিত। মার্কেটটির মালিক সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলাম রফিক ও তাঁর স্ত্রী ঝরনা ইয়াসমিন। সেখানে ১৮ জন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট যশোরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মার্কেটসহ সংশ্লিষ্ট জমি ক্রোকের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ক্রোক করা সম্পত্তি হস্তান্তর, সম্পত্তিসংশ্লিষ্ট কোনো ধরনের লেনদেন কিংবা দায়মুক্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আদালতের ওই নির্দেশনার পর মার্কেটে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যবসায়ীরা ভাড়া দেওয়া বন্ধ রাখেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ব্যবসায়ী মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্নাকে দিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন টিএসআই রফিক। মার্কেটের তৃতীয় তলায় মুন্নার একটি অফিস রয়েছে।

ব্যবসায়ী শেখ মুকুল ও তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে বারান্দীপাড়া কদমতলার বাসিন্দা মুন্না তাঁদের তিনজনকে নিজের অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে দোকানভাড়া পরিশোধ ও নতুন করে চুক্তিপত্র করার কথা বলেন তিনি। ব্যবসায়ীরা জানতে চান, মার্কেটের মালিকের সঙ্গে চুক্তি না করে অন্য কারও সঙ্গে কেন চুক্তি করবেন? জবাবে মুন্না নিজেকে টিএসআই রফিকের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। পরে ফোনে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। এ সময় রফিকুল ইসলাম রফিক তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মুন্নার সঙ্গে কথা বলতে বলেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি অন্য ব্যবসায়ীদের জানালে তাঁরা সবাই মিলে দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে পুলিশ সুপার আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আগের অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তবে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলেও মুন্না সব ব্যবসায়ীকে তাঁর অফিসে ডেকে নতুন করে চুক্তিপত্র করার কথা বলে চলে যান। এতে তাঁরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এ সময় ব্যবসায়ী তানভীন, বেনজির আহমেদ, মাসুদুর রহমান, শ্যামল কুমার মণ্ডল ও ইমদাদ হোসেনসহ অন্য ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক টিএসআই রফিকের প্রতিনিধি মুন্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

দুদকের একটি সূত্র জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যশোরে কর্মরত থাকাকালে প্রভাব বিস্তার করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর নিজের, স্ত্রী ও শ্যালিকার নামে বিভিন্ন সম্পত্তি আছে। যশোরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কেট ও ভবনসহ জমি দখল করে সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে অভিযোগ ও মামলা হওয়ার পর দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। আরএন রোডের আলোচিত মার্কেটটিও ওই ক্রোক করা সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যশোরের চাঁচড়া ও সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, মানুষকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো, মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় এবং মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বড় বাজারের জমি ও ভবনসংক্রান্ত বিরোধেও তিনি প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বড় বাজারের একটি বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমীন জানান, সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর নামে যেসব সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলো ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পত্তি দেখভালের জন্য রিসিভার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পরিচালিত হয়।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)