❒ যশোরে রুকন শিক্ষাশিবিরে বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলার উদ্যোগে রুকনদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলার উদ্যোগে রুকনদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যশোর পরিষদ মিলনায়তনে এ শিক্ষা শিবিরি অনুষ্ঠিত হয়। এ শিক্ষা শিবিরে সংগঠনের আদর্শিক চর্চা, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোবারক হোসেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমিরে জামায়াত স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে নয় বরং রাষ্ট্রের উন্নতিকল্পেই তিনি সময় ব্যয় করেছেন। দেশে কোনো ভালো ক্যান্সার হাসপাতাল না থাকায় তিনি জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশে একটি ‘ক্যান্সার ইনস্টিটিউট’ তৈরি করার জন্য, যেন শুধু রোগ নিরাময়ই নয়, দেশের চিকিৎসকরাও সেখান থেকে শিখতে পারেন। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী দেশ জাপানের কাছে তিনি দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে একটি টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ।
অতীতের বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতের মানুষ বিরোধী দল বলতে ১৭১ দিন হরতাল, ওয়াকআউট আর হুমকি-ধমকি দেখেছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো শব্দচয়ন বা আচরণ করেননি।
দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে মোবারক হোসেন বলেন, আমিরে জামায়াত নিজে পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে নতুন যারা ক্ষমতায় আসছে, তাদেরকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দেওয়া লাগে। যেখানে দোকানের ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেখানে ১ লাখ টাকা দেওয়া লাগছে। জুলাইর গণঅভ্যুত্থানকারীরা কি এই চাঁদাবাজির পুনরাবৃত্তি চেয়েছিল?
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাইকারি বাজারে ৪০ টাকা কেজির করলা খুচরা বাজারে এসে ৮০ টাকা হচ্ছে। এর অর্থ হলো বাজারে কোনো মনিটরিং নেই এবং সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে এই জামায়াত নেতা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভঙ্গুর করে রাখা হয়েছে। আমরা এই সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি উচ্ছেদ করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে চাই। আগামী জুন মাসের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতের বিশেষজ্ঞরা অর্থবহ আলোচনা করবেন। আওয়ামী সরকারের সর্বশেষ সাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের ৩৫ শতাংশ টাকাই শেখ হাসিনা পরিবার লোপাট করেছে। তাই মেগা খাতের নামে টাকা মারার বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। বাজেট প্রয়োজনের চেয়ে কম হোক, তবে প্রপার ইউটিলাইজেশনের (সঠিক ব্যবহার) মাধ্যমে যেন মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
তিনি রুকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা একটি অতি দায়িত্বশীল সংগঠন এবং বর্তমানে বিরোধী দলে আছি। অতীতের মতো শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে, সরকারকে সঠিক ট্র্যাকে রাখতে এবং মানুষকে একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র উপহার দিতে যা যা করণীয়, ইনশাআল্লাহ আমরা তা-ই করব।
শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রুকনদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. আলমগীর। তারা বর্তমান সময়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নেতাকর্মীদের আদর্শিক মানোন্নয়ন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সাংগঠনিক ঐক্য এবং ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীলতা, ত্যাগ ও আদর্শিক দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বিপুল সংখ্যক রুকন, দায়িত্বশীল ও নেতাকর্মীরা এ শিক্ষাশিবিরে অংশগ্রহণ করেছেন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে কোরআন-হাদিসভিত্তিক আলোচনা, সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, সহ-সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, সহ-সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম, ভিপি আব্দুল কাদের, হাসিম রেজা, মাওলানা আরশাদুল আলম এবং শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস প্রমুখ।